ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

পাঁচ বছরের শিশু নিসা মনি। গত রোববার বিকেলে নিখোঁজ হয়। পরে সন্ধ্যার বাড়ির পাশে কংশ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। উদ্ধারের পর রাত ৯টার দিকে নিসা মনির শেষ গোসলের সময় শরীরে নির্যাতন ও যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। পরে থানায় খবর দেন তারা। রাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টাঙ্গাটি মধ্যপাড়া গ্রামে। নিসা মনি ওই গ্রামের রাজু ওরফে লাক মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার গোয়াতলা ইউনিয়নে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, ধর্ষণের পর হত্যা করে শিশুটিকে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই গোসল করানোর সময় তারা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বিশেষ করে যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণের আলামত লক্ষ্য করা যায়। এতে তাদের সন্দেহ হয় যে, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আরজ আলী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। ধোবাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখান থেকে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সি দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে গেছেন। তবে, তাদের নাম ঠিকানা জানা নেই।

ধোবাউড়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।