বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, গবেষণার ফলাফল এমন হওয়া উচিত যা মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল ইম্প্যাক্টফুল হতে হবে। অর্থাৎ গবেষণার ফলাফল যেন শুধু কাগজের পাতায় বা প্রকাশনার মধ্যে পড়ে না থাকে। বরং গবেষণার ফলাফল যেন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আজ(বুধবার) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে 'লাগসই প্রযুক্তির মানোন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি'র বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
সচিব আরও বলেন, গবেষণা ফল-কে প্রোটোটাইপ বা নমুনা আকারে শিল্প/ইন্ডাস্ট্রিতে পৌঁছাতে হবে যাতে তারা পাইলটিং করে সেবা বা পণ্য আকারে বাজারজাত করে সমাজে এটির ইম্প্যাক্ট বা ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, লাগসই প্রযুক্তি মানে সস্তা প্রযুক্তি বেছে নেওয়া নয়। বরং এটি হলো আরও বেশি সময়োপযোগী প্রযুক্তি বেছে নেওয়া। প্রযুক্তি বাংলাদেশের উপযোগী হওয়া উচিত, বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উপযোগী হতে বাধ্য করা উচিত নয়।
সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ইম্পেক্ট বা প্রভাবহীন উদ্ভাবন অর্থাৎ এমন গবেষণা যা বাস্তবে মানুষের কোনো কাজে বা পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেনা সে রকম গবেষণা থেকে আমাদের সরে আসা উচিত।
তিনি আরও বলেন, লাগসই প্রযুক্তি হচ্ছে সেই প্রযুক্তি যাদের এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এটি যেন তাদের নাগালের মধ্যে থাকে, এটি সহজলভ্য অর্থাৎ মানুষের যখন এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই যেন পায় । এটি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর বা টেকসই যেন হয়। লাগসই প্রযুক্তি হচ্ছে সেটি যা সম্প্রসারণযোগ্য অর্থাৎ পাইলট প্রকল্প থেকে এটিকে জাতীয় পর্যায়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থাৎ সমাজের সকল স্তরের মানুষের কল্যাণ সাধন করে এমন হতে হবে।
সেমিনারে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) এর মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বিসিএসআইআর এর চেয়ারম্যান ড.সামিনা আহমদ,যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
এ ছাড়া সেমিনারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার প্রধানবৃন্দ জুম প্লাটফর্মে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ আলী ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

