× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

বাংলাদেশের প্রথম সমন্বিত এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের যাত্রা শুরু

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের টেকসই, পরিকল্পিত ও ভবিষ্যতমুখী উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান (সিএএমপি) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ লক্ষ্যে রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানিং ওভারভিউ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।

বেবিচকের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা সূচনার অংশ। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) পরিচালনায়, আইসিএও গোল্ড সনদপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন একাডেমি বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং বেবিচকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএওর বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এল আমিরি। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা তৈরির পদ্ধতি ও বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বক্তারা জানান, সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান (সিএএমপি) হবে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় রোডম্যাপ, যা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কৌশল নির্ধারণ করবে। এর আওতায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার ন্যাভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার, পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর আলোকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী আকাশপথ সংযোগ সম্প্রসারণ, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিক লজিস্টিক ও যাত্রী পরিবহন কেন্দ্রে উন্নীতকরণ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভিশনের প্রতিফলন ঘটবে।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের ফলে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ এবং নতুন বিমানবন্দর নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে সহায়ক হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত বর্তমানে দ্রুত বিকাশমান। বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণ এ অগ্রগতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কর্মশালা বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেবে, যা দেশের বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান নেই। এ প্রেক্ষাপটে বেবিচক দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যে এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আইসিএও ইতোমধ্যে এ পরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে। রোববারের কর্মশালার মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!