নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিবির আওতায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন। ফলে পিরিয়ডকালে প্রয়োজনীয় স্যানিটারি প্যাড সহজেই সংগ্রহ করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মেশিন স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, হাতীবান্ধা শাহ গরিবুল্লাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মতিয়ন নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং মিলনবাজার মৌলভী আবুল হাশেম আহমেদ সিনিয়র মাদ্রাসা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পিরিয়ড বা মাসিক নারীদের জীবনের একটি স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য বিষয় হলেও প্রয়োজনীয় স্যানিটারি প্যাডের অভাবে অনেক সময় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সামাজিক সংকোচ ও সচেতনতার অভাবে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়ায় সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল।
এমন বাস্তবতায় হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন। মেশিনের বাটন চাপলেই শিক্ষার্থীরা সহজে প্যাড সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে জরুরি সময়ে প্যাড না পাওয়ার দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একই স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগের আশঙ্কা থাকে। ফলে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি মেশিনের সঙ্গে মানসম্মত ব্র্যান্ডের ২০টি করে স্যানিটারি প্যাড বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন এ সুবিধা পেয়ে উচ্ছ্বসিত নারী শিক্ষার্থীরা।
মতিয়ন নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নেত্তাহুম মোনালিসা বলেন, আগে পিরিয়ড হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। স্কুলে আসতাম না। এখন বিদ্যালয়েই সহজে প্যাড পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মেঘা রানী রায় বলেন, এটি আমাদের জন্য খুবই উপকারী উদ্যোগ। এতে আমরা স্বস্তির সঙ্গে ক্লাস করতে পারছি। পিরিয়ড হলেও বিদ্যালয় ত্যাগ করতে হচ্ছে না।
মিলনবাজার মৌলভী আবুল হাশেম আহমেদ সিনিয়র মাদ্রাসার দাখিল শিক্ষার্থী সুবহা মেহেজাবীন মারিয়া বলেন, পিরিয়ড নিয়ে যে সংকোচ ছিল, সেটাও অনেকটা কমবে। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এমন ব্যবস্থা করা উচিত।
মতিয়ন নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম খান বকুল বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানে মনোযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা, জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন