প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিনের সরকারি সফরে বরিশাল পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। সফরের শুরুতেই তিনি গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখনন করা সরিকল খালের তীরে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার বরিশালে প্রথম সরকারি সফর।
সফরসূচি অনুযায়ী, গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন, যা শেষ মুহূর্তে সফরসূচিতে যুক্ত করা হয়।
পরে বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি নিজ হাতে জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা রোপণ করবেন। এছাড়া খালপাড়জুড়ে দেশীয় ফলজ, বনজ ও ফুলের শতাধিক গাছ লাগানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দলীয়ভাবে তোরণ, ব্যানার কিংবা ফেস্টুন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানবপ্রাচীর গড়ে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। তবে জনভোগান্তি এড়াতে সব আয়োজনই সুশৃঙ্খলভাবে করা হয়েছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা, যান চলাচল, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সার্বিক সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজক বিএনপি হলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এ সফরের মাধ্যমে বরিশালের উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নতুন উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা আসবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


