চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে করা কনসেশন চুক্তি বাতিল বা নতুন করে চুক্তি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
নৌমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইনের আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে চুক্তিটি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে এটি বাতিল বা পুনরায় চুক্তি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
তিনি জানান, প্রায় ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের এ প্রকল্পে টার্মিনাল নির্মাণে তিন বছর এবং পরিচালনায় ৩০ বছরসহ চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৩৩ বছর। পরবর্তীতে আরও ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এর আগে লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, লালদিয়া চর কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে একটি ‘অসম চুক্তি’ করা হয়েছে। তিনি জানতে চান, সরকার ওই চুক্তি বাতিল করে নতুন করে চুক্তি করার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না।
জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পিপিপি ব্যবস্থার আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালের ৩০ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২১ মে ডেনমার্কভিত্তিক মার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব দেয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেয়।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় এবং ডেনমার্ক সরকার এপিএম টার্মিনালসের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্মতি দেয়। পরে ১০ জুন পিপিপি কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন এবং ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি পাওয়ার পর ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভির অনুকূলে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
নৌমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় নির্মিতব্য এই টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন