বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শুরু হতে যাওয়া এই মর্যাদাপূর্ণ অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে গোপন ব্যালটের ভোটে এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়। নির্বাচনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের সমর্থন পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস (Andreas S. Kakouris) পেয়েছেন ৯১টি ভোট। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে দ্বিতীয়বারের মতো বসার গৌরব অর্জন করল। তিনি বর্তমান সভাপতি ও জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক মর্যাদা, বহুত্ববাদ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে কূটনীতি পরিচালনা করা ড. খলিলুর রহমান আগামী এক বছর (সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত) এই অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।
এই গৌরবময় অর্জনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, এই সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দক্ষতা ও বিশ্বশান্তির প্রতি আমাদের অবিচল অঙ্গীকারেরই এক অনবদ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
এবারের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’ (Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All)।
ড. খলিলুর রহমানের এই ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্সি মেয়াদেই জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়ার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ব রাজনীতি এবং জাতিসংঘের নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছেন।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিতে এবং বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইতিমধ্যেই নিউ ইয়র্কে পৌঁছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছেন। এর আগে গত মে মাসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তার ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ’ এবং সফল কূটনৈতিক তৎপরতা এই বিজয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
বর্তমান সংকট জর্জরিত বিশ্বপরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে এক পজিটিভ, নিরপেক্ষ ও কার্যকরী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই এখন প্রত্যাশা পুরো বিশ্বের।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন