পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ হাজার পরিবারের মাঝে সরকারি জিআর (ত্রাণ) চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই চাল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুরের সার্বিক সহযোগিতায় এ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে মোট ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল প্রদান করা হয়।
চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ। সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুস্তম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও ট্যাগ অফিসার মো. ফয়সাল খান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মামুন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ এবং সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার।
এছাড়াও সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সিকদার, বিএনপি নেতা নজির হোসেন, আনিস শিকদার, সিরাজ দর্জিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের হাতে সরকারি এই খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমান সরকার ও আমাদের সংসদ সদস্য সবসময় সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছেন। কোনো দুর্যোগেই কাউকে অনাহারে থাকতে দেওয়া হবে না। এই বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই ইউনিয়নের অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ১ হাজার পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা প্রকৃত দুস্থদের তালিকা তৈরি করেছিলাম, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরাই এই সরকারি সুবিধা পান। সঠিক সময়ে এই চাল পেয়ে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।
ত্রাণ নিতে আসা সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী আলী হোসেন ও জাহানারা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিন ধরে ঘরে ঠিকমতো খাবার ছিল না। কাজকর্মও বন্ধ ছিল। ১০ কেজি চাল পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। ঘরের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কয়েকদিন শান্তিতে খেতে পারব। আমাদের মতো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার জন্য দোয়া করি।
ত্রাণ নিতে আসা আক্কাস আলী নামে আরও এক বৃদ্ধা বলেন, বয়সের কারণে এখন আর নিয়মিত কাজ করতে পারি না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে সামান্য আয়-রোজগার ছিল, তাও বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। সরকারের দেওয়া এই ১০ কেজি চাল আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এমন সহযোগিতা পেলে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যায়। সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।


