রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি। বৈঠকে সিইসির সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে আপনারা সব জানতে পারবেন। পরবর্তী আলোচনার পর বিষয়টি জানানো হবে।’
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদেই অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে এবং ভোটার তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে চিঠিও দিয়েছে।
নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং এ নির্বাচন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচনের তফসিল, মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাইসহ পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে এক ধরনের বিধান রয়েছে, আর একক প্রার্থী থাকলে ভিন্ন বিধান অনুসরণ করা হবে। একইভাবে সংসদ অধিবেশন চলাকালে এবং অধিবেশন না থাকলে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রেও আইনে পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কমিশনের প্রস্তুতি চলছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যা জাতীয় সংসদ কক্ষে সম্পন্ন হবে।
এদিকে সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, বিষয়টি সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হলে কমিশন তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

