× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

রিহ্যাবের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান ১০ পরিচালক

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) । ছবি : সংগৃহীত

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) । ছবি : সংগৃহীত

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমে গঠনতন্ত্র পরিপন্থি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন সংগঠনটির ১০ জন পরিচালক।

গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক আবেদনে রিহ্যাবের নবনির্বাচিত পরিচালকরা সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

আবেদনে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল নির্বাচনের পর ২২ এপ্রিল, ৫ মে, ২৪ মে ও ৪ জুলাই পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হলেও একাধিক নীতিগত, প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

পরিচালকরা অভিযোগ করেন, রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আবেদনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই রিহ্যাবের তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি।

অভিযোগে বলা হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির নির্ধারিত আর্থিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে গত ২২ জুলাই সভাপতি ও সহ-সভাপতি (অর্থ)-এর যৌথ স্বাক্ষরে রিহ্যাব তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ ব্যয়ের বিষয়ে বোর্ডকে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া গত তিন মাসে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হলেও এর পূর্ণাঙ্গ হিসাব পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পরিচালকদের অভিযোগ, রিহ্যাবের বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মনোনয়নের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়নি। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বোর্ডের বাইরে থেকে পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ফেয়ার কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কমিটিতে অভিজ্ঞ পরিচালক থাকা সত্ত্বেও তাদের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই গত ৩ জুন এজিএম ও রিহ্যাব ভবন উদ্বোধন-সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়। পরে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর ১৫ জুন ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিচালকদের অভিযোগ, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই রিহ্যাব ইউনিভার্সিটি অব বিল্ডিং অ্যান্ড টেকনোলজি (RUBT)-এর প্রকল্প পরিচালক এবং রিহ্যাবের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (COO) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা কোম্পানি পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রেও গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, গত ১১ জুলাই রিহ্যাবের জেনারেল ম্যানেজার মো. সারোয়ার জাহানসহ কয়েকজন কর্মচারীকে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রিহ্যাবের সদস্যদের গোপনীয় নথি সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগও আনা হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়, গত ৬ জুলাই রিহ্যাব কার্যালয়ের একটি গোপন নথির অংশ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রকাশ করা হয়েছে, যা সংগঠনের তথ্য নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

পরিচালকদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই রিহ্যাব সামার ফেয়ার-২০২৬ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলার তারিখ, স্থান ও স্টল বরাদ্দের অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বোর্ডে আলোচনা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনে পরিচালকদের পক্ষ থেকে রিহ্যাবের আর্থিক লেনদেন, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত, বার্ষিক সাধারণ সভা এবং অভিযোগসমূহের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে স্বাক্ষরকারী পরিচালকরা হলেন— ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, প্রকৌশলী মঞ্জরুল ফরহাদ ফিলিপ, তাসনোভা মাহবুব সালাম, উম্মে জাহান আরজু, মো. জাহিদ হোসেন, মো. জহির আহমেদ, মো. ইমদাদুল হক, ক্যাপ্টেন মো. শাহ আলম ও ডা. এন জোহা।

আবেদনের অনুলিপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

Link copied!