শক্তিশালী জাতি গঠন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা ও আলতাফ হোসাইন।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ভিত্তি করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবি পার্টি শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ে শত শত তরুণের জীবন ও অঙ্গহানির বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। যারা জনগণের এই প্রত্যাশা ধারণ করতে ব্যর্থ হবে, তারা প্রত্যাখ্যাত হবে।
এবি পার্টির ঘোষিত ইশতেহারে মোট ৯টি খাতে ৬৮টি অভিপ্রায় তুলে ধরা হয়।
শিক্ষা
মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষকতা পেশার আধুনিকায়ন এবং বহুধাবিভক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা কার্যকর করতে অভিভাবক সংযুক্তি অ্যাপ চালুর মাধ্যমে সুনাগরিক তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়।
স্বাস্থ্য
নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু, ইউনিয়ন পর্যায়ে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য টাস্কফোর্স গঠন, উপকূলীয় এলাকায় নৌ অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান ফার্মেসি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গণপরিবহন
নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গ্রিন ও রেড বাস সার্ভিস চালু, নিরাপদ মহাসড়ক নিশ্চিতকরণ এবং নৌপথে নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য খাল নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরিবেশবান্ধব সবুজ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবাসন
আবাসন খাতে সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে ‘সামাজিক আবাসন’ স্কিম এবং ভাড়াটিয়া ও মালিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় মধ্যবিত্তবান্ধব ‘রেন্ট-টু-ওন’ আবাসন স্কিম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মসংস্থান
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ‘কর্মসংস্থান মিশন’, বিভাগীয় ‘জব সেন্টার প্লাস’ স্থাপন, যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে ইউথ স্টার্টআপ ফান্ড ও সোশাল এন্টারপ্রাইজ গ্র্যান্ট স্কিম গঠনের কথা বলা হয়।
পরিবেশ
আরবান ইকোলজিকাল ম্যাপ প্রণয়ন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়।
নারী নিরাপত্তা
নারীবান্ধব নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলা, পারিবারিক সহিংসতা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে আইন সংস্কার এবং নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।
পররাষ্ট্র নীতি
স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন, জলবায়ু ও জ্বালানি কূটনীতিকে অগ্রাধিকার, পেশাদার কূটনৈতিক কাঠামো জোরদার, পানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পাসপোর্টের বৈশ্বিক মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিরক্ষা
শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশল, স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট চালু এবং ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সক্ষম যুবকদের নিয়ে তরুণ স্বেচ্ছাসেবী পার্টটাইম ন্যাশনাল সার্ভিস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বায়ক সেলিম খান, মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারী।


