ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে : মঞ্জু

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিএনপির কথা ও কাজে মিল নেই বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ দাবি করেন দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অর্জন ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে টালবাহানা ও ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বাতিলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে দলের পক্ষ থেকে বিকেলে পল্টনের বিজয়-৭১ চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে জুলাই অভ্যুত্থান কিছুটা সার্থক হয়েছে বলে মনে হবে। অন্যথায় জুলাই অভ্যুত্থান পুরোপুরি ব্যর্থ হবে। সরকারি দল গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে যে ধরনের টালবাহানা ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করেছে, তা খুবই হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যদি আমাদের পরাজয় ঘটত, তাহলে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমানসহ সব মুক্তিযোদ্ধাকে দেশদ্রোহিতা ও পাকিস্তানের সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে ফাঁসির মুখোমুখি হতে হতো। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এবং বর্তমানে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে এ নিয়ে যে বিভেদ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার সূত্র ধরে যদি আবার কখনও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারেক রহমান, শফিকুর রহমান, ড. ইউনুস, নাহিদ ইসলামসহ আমাদের সবাইকে সংবিধান লঙ্ঘন ও বিপ্লবের দায়ে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ ও জুলাই সনদকে সাংবিধানিক প্রশ্নে বিতর্কিত করা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কণ্ঠে সুর মেলানোর শামিল।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের ঠিকানা হচ্ছে রাজপথ। রাজপথই বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার বদলে দিয়েছে। যদি জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা হয়, তবে আমাদের রাজপথই বেছে নিতে হবে এবং গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ আমরা জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম ও আনাসসহ ৬ বছরের শিশু শহীদ রিয়া গোপকে ভুলতে পারব না। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ আমরা অবশ্যই রক্ষা করব।

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না। তিনি বিএনপিকে জুলাইয়ের চেতনার আলোকে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানান, অন্যথায় হাসিনার পরিণতির কথা স্মরণে রাখতে বলেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, পাঠাগার ও গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, গাজীপুর জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব মাসুদ জমাদার রানা, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসাইন রমিজ, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক, এবি পেশাজীবী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী, শ্রমিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক আজিজা সুলতানা, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমেনা বেগম, পেশাজীবী কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর ইউসুফ, রমনা থানা এবি পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী এবং পলাশ থানার আহ্বায়ক কাজল মিয়া।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিজয়নগর, কাকরাইল, নয়া পল্টন ও পল্টন মোড় ঘুরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস চত্বরে এসে শেষ হয়।