সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর তিনি আলোচিত তরুণী মরিয়ম খাতুনকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও বিয়ে, কাবিননামা এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন সামনে এসেছে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি বাসার শয়নকক্ষে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। প্রথম ভিডিও প্রকাশের পর তার সমর্থকদের একটি অংশ এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে নিজেই ভিডিওটির ব্যাখ্যা দেন সংসদ সদস্য। তিনি জানান, আলোচিত তরুণী মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই দাবির পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি কাবিননামা, যা নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কাবিননামার নিবন্ধনকারী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা বি.এ.এম. বাকী বিল্লাহ দাবি করেন, বিয়ে কোথায় এবং কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকা থেকে ফোনে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়। পরে কনে ও তার অভিভাবক এসে নথিতে স্বাক্ষর করেন।
কাজী আরও জানান, বিয়ের তারিখ ১৭ জুন উল্লেখ করার নির্দেশও তাকে ফোনে দেওয়া হয়েছিল। কনের জন্মতারিখসহ অন্যান্য তথ্যও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি নথিভুক্ত করেছেন বলে দাবি করেন। তবে কথোপকথনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। শেষদিকে তিনি বলেন, আমি যাতে বিপদে না পড়ি, —এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
ভিডিও ভাইরালের পর পৃথক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ জানান, পারিবারিকভাবেই তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তি গাজী নজরুল ইসলামকে ওই তরুণীর সঙ্গে আটকে রেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিশ্বাস করেন, আজই প্রথম।’ এ সময় তরুণীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নীরব থাকেন। পরে তরুণী নিজের নাম ‘মাহি’ বলে পরিচয় দেয়। ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ভিডিও ডিলিট করে দেন, সবকিছু বলছি।’
এদিকে কাবিননামায় কনের জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ থাকলেও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট-এর প্রকাশিত তথ্যে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সংগ্রহ করা একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, গত ২২ জুন গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর ও হাতে লেখা ‘জোর সুপারিশ করছি’ মন্তব্য রয়েছে। অথচ ওই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে ‘অবিবাহিত’।
যদি ১৭ জুন বিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে মাত্র পাঁচ দিন পরের একটি নথিতে তাকে অবিবাহিত দেখানো হলো কেন—এ প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে দ্য ডিসেন্ট তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেও চাপা অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন