বাঙালি বানাতে গিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মনে অবিশ্বাসের বীজ বপন করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘পাহাড় বা সমতলের সব জাতিগোষ্ঠী যদি নিজেদের স্বার্থ সর্ম্পকে সচেতন থাকে, তাহলে কোনো অপশক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারবে না। বহু জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এই জাতিগোষ্ঠীকে বাঙালি বানাতে গিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মনে একটি অবিশ্বাসের বীজ বপন করা হয়েছিল।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘পরবর্তীতে আমরা দেখেছি- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মন থেকে সেই অবিশ্বাস দূর করনতে সক্ষম হয়েছেন।’
বিএনপি আগামী দিনে জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তারেক।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি আমার ব্যক্তিগত এবং বিএনপির পূর্ণ আস্থা ও সম্মান রয়েছে। বিএনপিঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় ১৬ নম্বর ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে- দলমত জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সব জাতিগোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মকাজের অধিকার, নাগরিক অধিকার, জীবন ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। এটি আমাদের অঙ্গিকার।’
জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক বলেন, ‘১৯৭৬ বা ৭৭ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহের সমতলের বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়েছিল। সে সময় শহীদ জিয়া বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এবং তাদের সংস্কৃতিচর্চা বিকাশের লক্ষ্যে বিরিশিরি কালচার একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’
‘ট্রাইবুনাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছিলেন গারোদের জন্য। রেডিওতে সালগিত্তা অনুষ্ঠান, ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ, বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান।’
বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ভাষা, গোত্র, বর্ণ কিংবা দলমত-ধর্ম-দর্শন যার যার, কিন্তু বাংলাদেশ সবার। প্রত্যেকের প্রধান পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। সুতরাং সমতল কিংবা পাহাড়, রাজধানী কিংবা শহর, নগর, বন্দর, বসতি যার যেখানেই হোক বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার, আমার এবং আমাদের সবার সমান অধিকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয়, ভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এবং বৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী সবার এই বাংলাদেশ। এতে বসবাসকারী প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এক-একটি রং। যাকে আমরা বলেছি রেইনবো ন্যাশন। সব ভাষাভাষী ও জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়।’
তারেক উল্লেখ করেন, ‘দলীয়ভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যোগ্য প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি করা হবে। এ ছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য সাংস্কৃতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠা, ট্রাইবুনাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ট্রাস্ট গঠন এবং দেশি-বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তিতে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা এবং নারী উদোক্তাদের ঋণ প্রদান ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।’
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন