ঢাকা রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

নুরের সুস্থতা জাতীয় পার্টির ‘সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি’, অপেক্ষায় জিএম কাদের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১০:৫৩ পিএম
ছবি -সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ‘শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আমাদের দলের ২৯ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন। আজও (শনিবার) আমাদের অফিসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হলো।’

শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শামীম হায়দার পাটোয়ারী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আজও আমাদের পার্টির কাকরাইল অফিসে আগুন দেওয়া হলো। ভাঙচুরের চেষ্টা করা হলো। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা হচ্ছে। জাতীয় পার্টিকে ভিকটিম করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টিকে টার্গেট করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই দুঃখজনক।’

‘রাষ্ট্র ও সরকার এ বিষয়ে সতর্ক ভূমিকা নেবে বলে আমরা আশা করছি।’ বলেন ব্যারিস্টার শামীম।

এ ঘটনায় আইনগত কোনও ব্যবস্থা নেবেন কিনা, এমন প্রশ্নে মহাসচিব বলেন, ‘আমরা পার্টির ফোরামে এ বিষয়ে আলাপ করছি। আমরা চাচ্ছি পরিস্থিতি শান্ত হোক। পাশাপাশি ভিপি নুরুল হক অসুস্থ, আমরা তার সুস্থতা কামনা করছি। তার জন্য দোয়া করছি। তার সুস্থতাই আমাদের সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি। আমরা আইনগত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছি।’

শুক্রবার সন্ধ্যার পর জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে পরিস্থিতি সাংঘর্ষিক হয়। পরে এই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করেন।

এ ঘটনায় পরিষদের পুরানা পল্টনের অফিসের গলিতে মারধরের শিকার হন সভাপতি নুরুল হক নুর। মাথা ও নাকে তিনি আঘাত পান। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন।

শনিবার এই ঘটনায় বিভিন্ন দল প্রতিবাদ ও সমাবেশ করে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ অনেক দলের নেতারা।

২০২৪-এ নির্বাচনে যেতে জাতীয় পার্টিকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আর এই অংশগ্রহণ কোনও আইনত অপরাধও নয় বলে উল্লেখ করেন এই শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তিনি বলেন, ‘আরও অপেক্ষা করবো। তারপর দলের উচ্চ পর্যায়ের অবস্থান ব্যক্ত করবো।’

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল তিন মাস আগে হওয়ার কথা। তিন মাস আগে কোনও পার্টির অফিসের মধ্যে এমন বিশৃঙ্খলা করলে অবশ্যই ভোটের পরিবেশকে ব্যাহত করে। ভোট না করাই পাঁয়তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এই বিশৃঙ্খলা করছে তাদের অ্যান্টি ভোট ফোর্স হিসেবেই আমরা মনে করি। সে ক্ষেত্রে সরকারের দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।