জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দেশের রাজনীতিতে হানাহানির পরিবেশ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং দেশের শান্তি রক্ষার জন্য আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ভীত নয়, তবে দেশকে নিয়ে আমাদের গভীর চিন্তা রয়েছে। এই দেশ আমাদের সবার, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরও জানান, আমরা দুঃখিত, আমাদের প্রিয় নুর আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। আমাদের তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গতকাল আমাদের পার্টি অফিসের কাছে একটি মিছিল যাওয়ার সময় বড় বড় ঢিল মারা হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি মশাল মিছিল নিয়ে আবার আমাদের পার্টি অফিসে আক্রমণ চালানো হয়, যেখানে আমাদের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় নেতারা ও সাবেক সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর আঘাত করে, যার ফলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
তিনি আরও বলেন, ইউনিফর্ম পরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর আঘাত করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এটি রাষ্ট্রের মূল কাঠামোতে আঘাত। তিনি জানালেন, সেনাবাহিনী তাদের থামানোর চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়, যার ফলে নুরুল হক নুর আহত হন। আমরা গভীরভাবে দুঃখিত এবং কষ্ট পেয়েছি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একটি দলের আদর্শ কখনও হতে পারে না আরেকটি দলের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের কর্মসূচি দেওয়া। জাতীয় পার্টি শান্তিপূর্ণ দল হিসেবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাজনীতি করে এবং আমরা এভাবে ট্যাগিং করার মাধ্যমে নব্য মবতন্ত্রের সৃষ্টি হতে দিতে পারি না।
এছাড়া, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জানান, যদি রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা না দিতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, যারা আইন হাতে তুলে নেবে তারা অপরাধী, তাদের প্রতি সহানুভূতির কোনো সুযোগ নেই।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, তবে যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয় বা মবতন্ত্র সৃষ্টি হয়, তাহলে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আবারও বলেন, বিগত এক বছরে কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে এভাবে মারধর করা হয়নি, অথচ গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের ওপর হামলা হয়েছে।