× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে’

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অখণ্ড ও নিরাপদ রাখতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অখণ্ড ও নিরাপদ রাখতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার একটি চক্রান্ত।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের অশ্রু ও আহাজারি জাতির জন্য অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার আর দীর্ঘায়িত করা যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচিত না হলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার ষড়যন্ত্রকারীরা দুঃসাহস পাবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের নামে নাটক সাজিয়ে যেসব নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মহানগরীর দক্ষিণ কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানা বিদ্রোহের হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে ভুল হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর পদমর্যাদার কোনো সেনাকর্মকর্তা শহীদ হননি, এমনকি যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সংখ্যাও ছিল সীমিত। কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় ৫৪ জন উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা প্রমাণ করে যে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার মতে, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশপ্রেমিক সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং সেই সুযোগে বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করে দেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করা। তাদের পরিকল্পনায় তারা অনেকটাই সফল হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটিত হবে। সাংসদ রফিকুল ইসলাম খান পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ বিরোধী দলের নেতাদের বিচারের নামে ‘জুডিসিয়াল কুলিং’-এর সঙ্গে জড়িত সবার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরের প্রতিটি দিনের বিচার করতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জনগণের স্বার্থে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সরকার জনগণের বিপক্ষে গেলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের সঙ্গে রাজপথেও দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, সেদিন পিলখানার দরবার হলে শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি কেন সেখানে যাননি—কারণ পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত। হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা বিডিআর সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে সেনাসদস্যদের রক্তের সঙ্গে শুধু বেঈমানিই নয়, ঠাট্টাও করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটক না করে হাসিনার নির্দেশে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের আটক ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানান।

সভা শেষে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাকর্মকর্তাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সব আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!