ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘জামায়াত চায় আগামীতে শ্রমিকের ঘর থেকেও প্রধানমন্ত্রী হোক’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

মালিকের ছেলে মালিক হলে, রাজার ছেলে রাজা হলে, শ্রমিকের ছেলে কেন মালিক প্রধানমন্ত্রী হবে না?  আমার একজন শ্রমিক ভাইয়ের ছেলে কি প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে? নাই। আমরা চাই শ্রমিক ভাই বন্ধুটির ঘর থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের 'ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬' এ একথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিজমের যাতা কলে পিষ্ট বাংলাদেশ চব্বিশের বৈপ্লবিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। এই আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন জীবন দেওয়া লোকদের শতকরা ৬২ ভাগ হচ্ছেন শ্রমিক। আর আমরা বাকি সবাই মিলে ৩৮ ভাগ। এটি পৃথিবীর ইতিহাস।

তিনি বলেন,  যারা রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় যান তারা ওই শ্রমিকদের অঙ্গ থেকে উঠে আসেননি। তারা সোনার চামচ রুপার কাঠি হাতে নিয়ে জন্ম নিয়েছেন। তারা শ্রমিকদের দুঃখ বুঝবে কীভাবে? তাদের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী মালিক। ব্যবসায়ী মালিক হওয়া কোনো অপরাধ নয়। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খোলা হবে, মিল, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি চালু হবে। জনগণ সেখানে কর্মসংস্থান খুঁজে পাবে। কিন্তু তারা ওই জনগণকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানবিক মর্যাদাটুকু দিতে ব্যর্থ। তাদের এই নোংরা আচরণের কারণেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেও যখন যান তখন একই কাণ্ডকারখানা তারা করে। শ্রমিকদের প্রতি তারা সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হন। 

জামায়াত আমির বলেন, লাল পতাকাওয়ালারা বলতো শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রেণিশত্রু খতম করতে হবে। এই শ্রেণিশত্রু কারা? যারা মালিক এবং উদ্যোক্তা তারা! তো মালিক আর উদ্যোক্তা যদি না থাকে শ্রমিক কাজ করবে কোথায়? তার কর্মসংস্থান হবে কোথায়? আমরা সমন্বয় করতে চাই। শ্রমিক মালিক ভাই ভাই একে অন্যকে সম্মান করবে ভালোবাসবে। শ্রমিক তার কর্মসংস্থানের জন্য মালিকের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। আন্তরিকভাবে কাজ করবে। আবার মালিক একথা মনে করবে যে তার পুঁজি আর তার যন্ত্রপাতি অচল যদি এই শ্রমিক না থাকে। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্প বাঁচবে। শ্রমিক যদি না বাঁচে শিল্পেরও মৃত্যু হবে।

তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে জাতিকে আমরা বলেছিলাম নেতৃত্ব আমরা তরুণ এবং যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। জামায়াতে ইসলামী থেকে যারা বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের শতকরা ৭০ ভাগের বয়স হচ্ছে ৪২ বছরের নিচে। আমরা তার প্রমাণ রেখেছি। আর আজকেও এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একজন যুবকের হাতে আমরা মূল চাবিটা তুলে দিলাম। আমরা চাই যৌবনের এই শক্তি জাতি গঠনের কাজে লাগুক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তির ময়দানে লড়াই হবে। আমাদের অধিকার, জনগণের অধিকার, আবার পায়ের তলায়পিষ্ট করার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। কিন্তু আমরা আবার সংসদে ফিরে যাবো। মাঝখানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের মুক্তির আন্দোলন আমরা গড়ে তুলবো। এই আন্দোলনের জনগণের অধিকারের ব্যাপারে আমরা সরকার কিংবা যেকোনো কর্তৃপক্ষকে ইনশাআল্লাহ চুল পরিমাণ ছাড় দেবো না। 

আন্দোলনে অতীতের মত গৌরবময় ভূমিকা পালন করার জন্য শ্রমিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।