বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুসাপুর এলাকার আজিম ভূঁইয়া বাড়ির প্রবাসী মো. নাজিম উদ্দিন। হামলার সময় তিনি কর্মস্থলে কাজ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তার স্ত্রী জানান, হামলার পর বিস্ফোরণের আগুনে তার পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত কাপড় খুলে তিনি নিজেকে সামলে নেন। তবে এ ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ধাতব টুকরো তার হাঁটুতে আঘাত হানে।
এ ঘটনায় নিহত আবুল মহসিন তারেক তার আত্মীয়। তারেকের শরীরে আগুন জ্বলতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নাজিম উদ্দিন নিজেও গুরুতরভাবে আহত হন।
আহত নাজিম উদ্দিন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত। গত বছরের আগস্ট মাসে ছুটি কাটিয়ে তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। তিন সন্তানের জনক নাজিম উদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আহত হওয়ার খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী জহুরা কবির বলেন, তার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।
এদিকে হামলার ঘটনায় আহতদের দেখতে বাহরাইনের কিং হামাদ হাসপাতালে যান বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি দল। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া বাহরাইনের রাজার নির্দেশে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।
এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন তার নাম কামরুল ইসলাম।


