ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

কুয়ালালামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ‘জুলাই শহীদ দিবস’

মো. মনিরুজ্জামান, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। একই সঙ্গে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত ‘জুলাই অনির্বাণ’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ হাই কমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, জুলাই শহীদ দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিটের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম শাহ, এনবিএল মানি ট্রান্সফারের সিইও আলী হায়দার মোর্তজা, জাতীয়তাবাদী যুবদল মালয়েশিয়ার সভাপতি মো. জসিমউদ্দীন, সাংবাদিক মো. আমিনুল ইসলাম রতন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মালয়েশিয়ার সদস্য সচিব শামসুল আলম সিকদার হেলাল, জাসাস মালয়েশিয়ার সভাপতি শেখ আসাদ আহমেদ মাসুম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি মালয়েশিয়ার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এ আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহীদকে। বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।

শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।