ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

কুয়েতে মধ্যরাতে অভিযান, আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

কুয়েতে কর্তৃপক্ষের আকস্মিক অভিযানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। রাজধানী কুয়েত সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত জিলিব আল-শুয়াইখ এলাকার হাসাবিয়া-আব্বাসিয়ায় মধ্যরাতে পরিচালিত অভিযানে বহু বাংলাদেশিকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কুয়েত পুলিশের বিশেষ অভিযানে এলাকার বিভিন্ন ভবন থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত বের করে দেওয়া হয়। প্রবাসীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযানের পর অনেকেই রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন, আবার কেউ কেউ সরকারি স্থাপনায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসাবিয়া-আব্বাসিয়া এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই বাংলাদেশি। পূর্বঘোষণা ছাড়াই গভীর রাতে এমন অভিযান পরিচালনা করায় বৈধ প্রবাসীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যারা অভিযানের সময় এলাকা ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন নিরাপত্তাহীনতায় বাসায় ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযানের পর বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, যেসব ভবনে তারা বসবাস করছিলেন, সেগুলোর অনেকগুলোই স্থানীয় আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেগুলো খালি করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দূতাবাস প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বাংলাদেশ ফ্যামিলি ফোরাম কুয়েতের সভাপতি আব্দুল হাই ভূইয়া বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি, আইনি কড়াকড়ি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রবাসীরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কাজের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যবসায় মন্দা এবং বিমান ভাড়ার উচ্চমূল্যের কারণে তারা বিপাকে রয়েছেন। বিশেষ করে, ঢাকা-কুয়েত রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকায় অনেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না।

১৫ বছর ধরে কুয়েতে থাকা কুমিল্লার কাশেম আলী বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে এখনও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে মৌলভীবাজারের শামসুল আলম বলেন, কাজের অভাব ও বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাবেও কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। জাহিদ হোসেন নামে এক বাংলাদেশি জানান, সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে এখন আগের মতো সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয় না, ফলে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

ফেনীর দাগনভূঞার খোরশেদ আলী, যিনি একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে কর্মরত, বলেন আকামা-সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং উচ্চ বিমানভাড়ার কারণে দেশে ফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার বলেন, প্রবাসীদের প্রধান দাবি হলো দ্রুত ঢাকা-কুয়েত রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালু করা। এতে টিকিটের দাম কমবে এবং জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীরা সহজে দেশে ফিরতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।