ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ফাঁসের ভয়ে জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
জোবায়েদ হোসাইন। ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিকল্পিতভাবে জোবায়েদকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়েছে জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার বর্তমান প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ৫০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক আলামতের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে যান জোবায়েদ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসার নিচতলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় নয় মাস তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডটি তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনা ছিল না; বরং প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর এটি বাস্তবায়ন করা হয়। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ এবং মাহির—দুজনেরই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জোবায়েদের কাছে থাকা বর্ষার অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু জানান, অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশনের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে এবং বর্তমানে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে। পরে এটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগপত্রে থাকা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাহির রহমানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও অভিযোগপত্রে সংযুক্ত রয়েছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার আসামিদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।