বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়োগে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FWCMS)-এর মাধ্যমে কোটা আবেদন ও অনুমোদনের ব্যবস্থা চালু করেছে মালয়েশিয়া সরকার।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নিয়োগকর্তাদের সব ধরনের কোটা আবেদন অনলাইনে FWCMS-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি সাক্ষাতের নির্ধারিত তারিখ ও সময় পাবেন। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ওয়ান-স্টপ সেন্টার (OSC) আবেদন মূল্যায়ন সম্পন্ন করার পর অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন পদ্ধতির আওতায় প্রথম ধাপে পূর্বে হাতে জমা দেওয়া ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠানের ২২ হাজার ৪৭৬টি কোটা আবেদন নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে, বিদেশি কর্মীদের আগমন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং বিমানবন্দরের ভিড় কমানোর লক্ষ্যে নতুন আগত কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ ট্রানজিট কেন্দ্র স্থাপনেরও অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা।
মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের নিবন্ধিত নিয়োগকর্তারা নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে এই ট্রানজিট কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। এতে বিমানবন্দরের ভিড় কমবে এবং কর্মীদের প্রকৃত নিয়োগকর্তার কাছেই হস্তান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না বিদেশি শ্রমিকরা বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে অন্য কারও কাছে চলে যাক। তাদের নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার কাছেই যেতে হবে। এ উদ্দেশ্যেই ট্রানজিট কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এটি কোনো আটক কেন্দ্র নয়; বরং নিয়োগকর্তা এসে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মীদের সাময়িকভাবে রাখার একটি নিরাপদ ব্যবস্থা।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে এই ট্রানজিট কেন্দ্রে একসঙ্গে এক হাজার থেকে দুই হাজার বিদেশি কর্মীর থাকার ব্যবস্থা রাখতে হতে পারে।
রামানান আরও জানান, ১ জুলাই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি কর্মীদের ওয়ান-স্টপ সেন্টার (OSC) এখন থেকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই, পাস এবং কাজের অনুমতিপত্র ইস্যুর দায়িত্ব আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেই থাকবে।

