ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় সংকটাপন্ন প্রবাসীদের সহায়তা দিতে হাইকমিশনকে আইনি নোটিশ

মো. মনিরুজ্জামান, মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা ১০৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য জরুরি কনস্যুলার, মানবিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষে তাদের আইনজীবী এই নোটিশ পাঠিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংয়ে অবস্থিত অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে কর্মরত এসব শ্রমিক বর্তমানে গুরুতর শ্রম, কর্মসংস্থান, কল্যাণ ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সংকটের মুখোমুখি রয়েছেন। তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের দাবিতে পোর্ট ক্লাং শ্রম আদালতে একটি যৌথ মামলা চলমান রয়েছে।

মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রমিকদের পাসপোর্টের তথ্য, ভিসার মেয়াদ, ‘ওয়ারেন্ট টু অ্যাক্ট’সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ চলছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের অনেকেই বর্তমানে চরম খাদ্যসংকট ও মৌলিক চাহিদার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভিবাসী কল্যাণ নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন), সোশ্যালিস্ট অল্টারনেটিভ এবং কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অস্থায়ীভাবে খাদ্য, যাতায়াত, অনুবাদ, গবেষণা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতে সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় কনস্যুলার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিকল্প হতে পারে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শ্রমিকরা খাদ্যসহ মৌলিক সহায়তা, বৈধ অভিবাসন সুরক্ষা, কার্যকর আইনি প্রতিনিধিত্ব এবং বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

চিঠিতে শ্রমিকদের ভিসার বর্তমান অবস্থার একটি শ্রেণিবিন্যাসও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২৮ জন শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আরও ৩৪ জনের ভিসার মেয়াদ আগামী ২৯ জুন থেকে ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হবে, যাদের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে যাচাই ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ দরকার। অপরদিকে, বাকি ৪৩ জন শ্রমিকের ভিসা এখনও তিন মাসের বেশি সময় পর্যন্ত বৈধ রয়েছে।

আইনজীবী বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতি শ্রমিকদের পাসপোর্ট ও মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের রেকর্ডের সঙ্গে তথ্য দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।