মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্প ও প্রযুক্তিভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ৩৭তম মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেশিনারি ফেয়ার (MIMF) ২০২৬-এ টানা তৃতীয়বারের মতো অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সক্রিয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ে এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BPGMEA) সহযোগিতায় দেশের ১৪টি প্রতিষ্ঠান তিনটি বুথে তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (MITEC) ১৬ থেকে ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ৪৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ৬৫০টি বুথে অংশ নিয়েছে। প্রোমাস ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সোসাইটি ও ইএস ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে উৎপাদন, প্যাকেজিং, প্লাস্টিক, মুদ্রণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে।
১৬ জুলাই মেলার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার উপ-কার্যমন্ত্রী (ডেপুটি মিনিস্টার অব ওয়ার্কস) ডাতুক সেরি আহমদ মাসলান। উদ্বোধনের পর তিনি অন্যান্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী, BPGMEA-এর সভাপতি শামীম আহমেদ এবং অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল।
বাংলাদেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন সক্ষমতা এবং মালয়েশিয়ার বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার সহযোগিতাও কামনা করা হয়।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— আমান প্লাস্টিক টয় ইন্ডাস্ট্রিজ, ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড, ব্যাগস অ্যান্ড প্যাকস, বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ডব্লিউ অ্যান্ড ডব্লিউ কোম্পানি লিমিটেড, জিহান টয় ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিক লিমিটেড, দ্য মার্চেন্টস লিমিটেড, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই), আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড, নর্থ প্যাক, অ্যাপোল প্রিন্ট প্যাক এবং সাথী প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং, গৃহস্থালি ও রান্নাঘরের সামগ্রী এবং প্লাস্টিক খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করছে।
বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে ডেপুটি মিনিস্টার ডাতুক সেরি আহমদ মাসলান বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি BPGMEA-এর সভাপতি শামীম আহমেদের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ‘Plastic Industry Investment Matching’ ফোরামে অংশ নেয়। সেখানে তিনি বাংলাদেশকে প্লাস্টিক শিল্পে একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়াসহ এ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তঃসীমান্ত শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
মেলার বিভিন্ন পর্যায়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিল্প উদ্যোক্তা, আমদানিকারক, সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও বাণিজ্য প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন এবং প্রদর্শিত পণ্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্প দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ধারাবাহিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, MIMF-এ বাংলাদেশের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ দেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন, নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি, বৈদেশিক ক্রেতা-সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

