ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের প্রস্তুতি ও করণীয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্তুতি। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজান দরজায় কড়া নাড়ছে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও আত্মশুদ্ধির বড় সুযোগ আসে এই মাসে। তবে সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের জন্য রোজা রাখা সহজ হলেও, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন বিশেষ সতর্কতা ও সঠিক পরিকল্পনা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই রোজার সময় ডায়াবেটিস রোগীরা কীভাবে নিজের যত্ন নেবেন এবং কোন বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখবেন সেগুলো জেনে রাখা দরকার।

১. চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ


রোজা রাখার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ডায়াবেটিসের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধের মাত্রা বা ইনসুলিনের সময়সূচি পরিবর্তন করে দেবেন।

ইনসুলিন বা ওষুধের নিয়ম

(ক) ডোজ সমন্বয়: রমজানে ওষুধের মাত্রা সাধারণত অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন হয়। সকালের ওষুধ ইফতারে এবং রাতের অর্ধেক ওষুধ সেহরিতে খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নিজস্ব সিদ্ধান্তে ডোজ কমাবেন বা বন্ধ করবেন না।

(খ) সেহরির গুরুত্ব: সেহরির খাবার কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না। সেহরির শেষ সময়ে খাবার গ্রহণ করুন।

(গ) ইনসুলিন পেন: যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন তারা ইফতার ও সেহরির সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ নেবেন।

২. সেহরি ও ইফতারে খাদ্যতালিকায় সতর্কতা

(ক) শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট: ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে জটিল শর্করা (যেমন: লাল চালের ভাত, ওটস, রুটি) গ্রহণ করুন, যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে।

(খ) ফাইবারযুক্ত খাবার: শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খান। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে।

(গ) পর্যাপ্ত পানি পান: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার পান করতে হবে, যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়ে পড়ে। চা-কফি কম পান করাই ভালো।

৩. সুগার লেভেল নিয়মিত পরীক্ষা

রোজা অবস্থায় দিনের যেকোনো সময় সুগারের মাত্রা হঠাৎ কমে (Hypoglycemia) বা বেড়ে (Hyperglycemia) যেতে পারে। তাই দিনের বেলা কয়েকবার এবং ইফতারের পর সুগার চেক করা প্রয়োজন।

৪. রোজা ভাঙার সংকেত

যদি সুগার লেভেল ৭০ mg/dL এর নিচে নেমে যায় অথবা ৩০০ mg/dL এর উপরে উঠে যায়, তবে রোজা ভেঙে ফেলা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বুক ধড়ফড় করা বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

৫. ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম

রোজার সময় ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে ইফতারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিস রোগীরাও সুস্থভাবে রমজান পালন করতে পারেন। তবে নিজের শরীরের সিগন্যাল বোঝা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই মূল চাবিকাঠি।