× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

তাবিজ কি আসলেই শিরক? কোরআন ও হাদিসের আলোকে সমাধান

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

তাবিজ কি আসলেই শিরক? ছবি : সংগৃহীত

তাবিজ কি আসলেই শিরক? ছবি : সংগৃহীত

আমাদের সমাজে অসুখ-বিসুখ বা বিপদ-আপদ থেকে বাঁচতে তাবিজ ব্যবহারের প্রচলন দীর্ঘদিনের। কেউ কেউ একে রোগমুক্তির উপায় হিসেবে দেখেন, আবার কেউ একে মনে করেন শিরক। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইসলামে তাবিজ ব্যবহারের বিধিনিষেধ আসলে কী? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ব্যাখ্যা কী? 

তাবিজের প্রকারভেদ ও শরিয়তের অবস্থান
ইসলামি স্কলাররা তাবিজকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করেছেন:

১. কোরআনের আয়াত ও দোয়া সংবলিত তাবিজ:
যদি তাবিজে পবিত্র কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো কোনো দোয়া লেখা থাকে, তবে অধিকাংশ আলেমের মতে এটি জায়েজ। তবে শর্ত হলো-একে কেবল ‘উসিলা’ বা মাধ্যম হিসেবে মনে করতে হবে। মনে রাখা জরুরি যে, শেফা বা মুক্তি দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

সাহাবায়ে কেরামের আমল: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর মতো কোনো কোনো সাহাবী থেকে সন্তানদের গলায় দোয়া লিখে ঝুলিয়ে দেওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।

২. অস্পষ্ট ভাষা বা কুফরি কালামের তাবিজ:
যদি তাবিজে শিরকি কথা, জাদুটোনার সংকেত বা অস্পষ্ট কোনো ভাষা লেখা থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ হারাম এবং শিরক। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি তাবিজ ঝোলাল, সে শিরক করল।” (মুসনাদে আহমদ)। 

কখন তাবিজ শিরক হয়ে দাঁড়ায়?
তাবিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আকিদা বা বিশ্বাস হলো আসল বিষয়।

যদি কেউ মনে করে যে, এই তাবিজটিই তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করবে বা তাবিজের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা আছে-তবে তা সরাসরি শিরক। আল্লাহর ওপর ভরসা ছেড়ে বস্তুর (তাবিজের) ওপর নির্ভর করা ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থী।

সুন্নতি আমল: তাবিজের বিকল্প যা হতে পারে
রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থতা বা জিনের আসর থেকে বাঁচতে সরাসরি কিছু আমল শিখিয়েছেন, যা তাবিজের চেয়ে বহুগুণ বেশি কার্যকর ও নিরাপদ: সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস: ঘুমানোর আগে বা বিপদের সময় এই তিন সুরা পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীর মাসাহ করা।

আয়াতুল কুরসি: ঘর ও নিজেকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করতে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা।

মাসনুন দোয়া: বিভিন্ন রোগের জন্য রাসুল (সা.)-এর শেখানো নির্দিষ্ট দোয়াগুলো পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া (একে ঝাড়ফুঁক বা 'রুকইয়াহ' বলা হয়)।

আলেমদের পরামর্শ
বর্তমান সময়ের অধিকাংশ বিজ্ঞ আলেমদের মতে, কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও এটি এড়িয়ে চলাই উত্তম। কারণ:

এতে কোরআনের আয়াতের অবমাননা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যেমন: অপবিত্র অবস্থায় শরীরে থাকা)। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে আল্লাহর চেয়ে তাবিজের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ভণ্ড কবিরাজরা এর সুযোগ নিয়ে শিরকি ও কুফরি কাজ ছড়িয়ে দেয়।

ইসলাম আমাদের শেখায় একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করতে। অসুস্থতা বা বিপদে ডাক্তার দেখানো বা বৈধ মাধ্যম গ্রহণ করা সওয়াবের কাজ, তবে আমাদের মূল বিশ্বাস যেন কেবল আল্লাহর ওপরই থাকে। কোরআন ও হাদিসের দোয়াগুলো নিজেই পড়ে ঝাড়ফুঁক করা সুন্নাহসম্মত এবং সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!