× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

কালো জাদু ও কুফরি কালাম থেকে বাঁচার ৫টি শক্তিশালী আমল

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

কালো জাদু ও কুফরি কালাম থেকে বাঁচার আমল। ছবি : সংগৃহীত

কালো জাদু ও কুফরি কালাম থেকে বাঁচার আমল। ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান যুগেও এক শ্রেণির অসাধু মানুষ নিজের স্বার্থ হাসিল বা অন্যের ক্ষতি করার জন্য কালো জাদু বা কুফরি কালামের আশ্রয় নেয়। ইসলামে এই কাজটিকে কেবল ঘৃণিতই বলা হয়নি, বরং একে সরাসরি ‘কুফর’ বা ইমান বিধ্বংসী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রায়ই বুঝতে পারেন না কোনটি জাদুর প্রভাব আর কোনটি শারীরিক অসুস্থতা। কালো জাদু কী এবং এর ভয়ংকর প্রভাব থেকে বাঁচার সুন্নাহসম্মত উপায়।

কালো জাদু ও কুফরি কালাম কী?
কালো জাদু বা কুফরি কালাম হলো শয়তান ও জিনকে খুশি করার মাধ্যমে অলৌকিক উপায়ে অন্যের ক্ষতি করার একটি প্রক্রিয়া। তাবিজে বা লেখায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা, পবিত্র কোরআনের আয়াতের অবমাননা করা কিংবা নোংরা বস্তু ব্যবহার করে মন্ত্র পড়া-এসবই কুফরি কালামের অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামি শরিয়তে জাদুকরের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজের একটি হিসেবে 'জাদু'কে উল্লেখ করেছেন।

কালো জাদুর কিছু সাধারণ লক্ষণ
যদিও সব অসুস্থতা জাদু নয়, তবে অভিজ্ঞ আলেমদের মতে জাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে:

অকারণে প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা শরীর ভারী হয়ে থাকা।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হঠাৎ করেই চরম তিক্ততা তৈরি হওয়া।

ইবাদত বা কোরআন তেলাওয়াত শুনলে অস্বস্তি বোধ করা।

স্বপ্নে ভয়ংকর কিছু দেখা বা একা থাকলে কেউ পেছনে আছে এমন অনুভব করা।

চিকিৎসকের কাছে গিয়েও শারীরিক সমস্যার কোনো সঠিক কারণ খুঁজে না পাওয়া।

জাদুর প্রভাব থেকে বাঁচার সুন্নাহসম্মত উপায়
আল্লাহর কালামের চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই। জাদুর প্রভাব থেকে বাঁচতে নিচের আমলগুলো অত্যন্ত কার্যকর:

১. সকাল-সন্ধ্যার জিকির:
প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পর মাসনুন জিকির ও দোয়াগুলো পাঠ করা। এটি মানুষের চারপাশে একটি অদৃশ্য দেয়াল বা ঢাল তৈরি করে।

২. তিন কুলের আমল:
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস তিনবার করে পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেওয়া। রাসুল (সা.)-এর ওপর যখন জাদু করা হয়েছিল, তখন এই দুই সুরা (ফালাক ও নাস) দিয়েই তার প্রতিকার করা হয়।

৩. আয়াতুল কুরসি:
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। হাদিস অনুযায়ী, এটি পাঠ করলে সারারাত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা তাকে হেফাজত করেন।

৪. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ও ঘরে তেলাওয়াত:
যে ঘরে সুরা বাকারা তেলাওয়াত করা হয়, সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। বিশেষ করে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬) রাতে পাঠ করলে তা নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।

৫. সুন্নতি খাবার:
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৭টি ‘আজওয়া’ খেজুর খাওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ বা জাদু ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি)।

ভণ্ড কবিরাজ থেকে সাবধান
জাদু কাটানোর নামে অনেক ভণ্ড তান্ত্রিক বা কবিরাজ মানুষকে আরও বড় কুফরির দিকে ঠেলে দেয়। যারা চিকিৎসার জন্য জিনের সাহায্য নেয়, নাম-পরিচয় বা ব্যবহৃত কাপড় চায় কিংবা অদ্ভুত কোনো শিরকি আমল করতে বলে—তাদের থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব। শরিয়তসম্মত উপায়ে যারা চিকিৎসা করেন (যাকে 'রুকইয়াহ' বলা হয়), কেবল তাদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কালো জাদু একটি সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাধি। এর থেকে বাঁচতে প্রয়োজন মজবুত ইমান এবং নিয়মিত কোরআন-সুন্নাহর আমল। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো জাদুকরই কারো ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!