বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে রমজান মাসের রোজা রাখবেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ মাস রমজান সমাগত। মোত্তাকিদের জন্য ভরা বসন্ত যেন এই রমজান। মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে রসুল (স.) বিশ্ববাসীর উদ্দেশে একটি দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। এতে তিনি রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে উল্লেখ করে ইবাদত, দানশীলতা ও আত্মশুদ্ধির নির্দেশ দেন।
হজরত সালমান ফারেসি (র.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ প্রদান করলেন। রসুল (সা.) বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের ওপর এক মহান ও কল্যাণময় মাস ছায়া বিস্তার করছে। এটা এমন মাস, যাতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। আল্লাহ তায়ালা (তোমাদের জন্য) এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং রাতে (তারাবি) নামাজ পড়াকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য চেয়ে একটি নেক কাজ করবে সে ওই ব্যক্তির সমান হবে, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করেছে। এটা ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্য এমন একটি গুণ, যার প্রতিদান (সওয়াব) হলো জান্নাত।
এটা পারস্পরিক সহানুভূতির মাস। এটা ওই মাস যাতে মুমিন ব্যক্তির রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে ইফতার করাবে এটা তার পক্ষে তার গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমাস্বরূপ হবে এবং তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তির কারণ হবে। আর তাকে রোজাদারের সমান সওয়াব দান করা হবে, এতে তার সওয়াব হতে কিছুই কমানো হবে না।
হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রসুলুল্লাহ (সা.)! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি এমন সামর্থ্য রাখে না যা দ্বারা রোজাদারকে ইফতার করাতে পারে। তখন রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এ সওয়াব ওই ব্যক্তিকেও দান করেন যেকোনো রোজাদারকে এক ঢোক দুধ দ্বারা, একটি খেজুর দ্বারা অথবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করায়। যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্তির সঙ্গে ভোজন করায় আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে পানীয় পান করাবেন। ফলে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। এটা এমন একটি মাস, যার প্রথম অংশ রহমত, মধ্য অংশ ক্ষমা এবং শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি। যে ব্যক্তি এ মাসে নিজের দাসদাসীদের কর্মভার হালকা করে দেবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।’ (বায়হাকি, মিশকাতুল মাছাবিহ, কিতাবুস সাওম, হাদিস নম্বর ১৮৬৮)।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন