জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি অন্যতম আর্থিক ইবাদত। এটি মূলত মুসলিম সমাজের দারিদ্র্য বিমোচন এবং সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য নির্ধারিত। তবে আধুনিক সময়ে মানবিক প্রয়োজনে অমুসলিমদের জাকাত দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে প্রশ্ন।
১. পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে সুরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত ব্যয়ের আটটি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি খাত হলো ‘মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম’ বা যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে বা ইসলামের ক্ষতি থেকে বিরত রাখতে এই খাত থেকে অর্থ দেওয়া হতো। তবে অধিকাংশ ফকিহদের মতে, জাকাতের বাকি সাতটি খাত মূলত অভাবী মুসলিমদের জন্যই নির্দিষ্ট।
২. মাজহাব কি বলে?
হানাফি মাজহাব, অনুমতি নেই, জাকাত কেবল অভাবী মুসলিমদের হক। তবে সাধারণ দান বা সদকা অমুসলিমদের দেওয়া যাবে।
শাফিঈ মাজহাব, অনুমতি নেই, জাকাত শুধু মুসলিম দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।
মালিকি ও হাম্বলি, অনুমতি নেই, তারা শর্তহীনভাবে অমুসলিমদের জাকাত প্রদানের বিপক্ষে।
৩. ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট: ‘মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম’
কিছু আধুনিক আলেম এবং পূর্ববর্তী অল্পসংখ্যক ফকিহ মনে করেন, যদি কোনো অমুসলিমকে জাকাত দিলে তিনি ইসলামের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন বা ইসলামের উপকার হয়, তবে তাকে ‘মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম’ খাত থেকে জাকাত দেওয়া যেতে পারে। তবে এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে রাষ্ট্রীয় বা সামষ্টিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
৪. সাধারণ দান বা ‘সদকা’ কি দেওয়া যাবে?
জাকাত দেওয়া না গেলেও অমুসলিমদের মানবিক সাহায্য করার ক্ষেত্রে ইসলামে কোনো বাধা নেই।
নফল সদকা: অমুসলিম প্রতিবেশী বা অভাবী ব্যক্তিকে নফল সদকা, দান, হাদিয়া বা উপহার দেওয়া সওয়াবের কাজ।
সদকায়ে ফিতর: অধিকাংশ আলেমের মতে ফিতরাও অমুসলিমদের দেওয়া যাবে না, তবে ইমাম আবু হানিফা (র.) এর মতে জিম্মি (মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম) অভাবীদের ফিতরা দেওয়া বৈধ।
অধিকাংশ ইসলামি স্কলারদের মতে, ফরজ জাকাত কেবল অভাবী মুসলিমদেরই দিতে হবে। কোনো অমুসলিম অভাবগ্রস্ত হলে তাকে জাকাতের টাকা না দিয়ে সাধারণ দান, সদকা বা তহবিল থেকে সাহায্য করা ইসলামের উদারতা ও মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। এতে করে জাকাতের নির্দিষ্ট লক্ষ্যও পূরণ হয় এবং অমুসলিমের প্রতি সামাজিক দায়িত্বও পালিত হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন