বেশ হাইপ তুলে কোরবানির আগে আলোচনায় এসেছিলো দেশের খামারের অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। বিশ্বের নামকরা সব পত্রিকার শিরোনাম হলেও শেষপর্যন্ত প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে অবিক্রীত থেকে যায় সেটি। জনসাধারণের আগ্রহের কারণে পরে চিড়িয়াখানায় ঠাঁই হয় তার। তবে সেখানে অনাদরে অবহেলায় পড়ে আছে বিরল জাতের এই মহিষটি। আগে যেখানে খামারির ‘অতিযত্নে’ থাকতো এখন সেটি হয়েছে অবহেলার নির্মম শিকার।
চিড়িয়াখানায় মহিষটিকে দেখে এসে অনেকেই লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তেমনি এক পোস্টে অযত্নে পড়ে থাকা মহিষটির ছবি দিয়ে বাবু দেওয়ান নামের একজন লিখেছেন, ‘এই ছবিটি আমাদের বুঝিয়ে দেয় আমাদের জীবনে অভিভাবকদের গুরুত্ব কতখানি! সে যখন তার খামারি মালিকের কাছে ছিলো তখন তার কত সুন্দর বাহ্যিকরূপ ছিলো। নিয়মিত তাকে গোসল, খাওয়ানো এমনকি ট্রাম্পের মত করে চুলও আচরে দিতো।’
‘দেখতে তাকে একেবারে ধবধবা নাদুসনুদুস সুন্দর লাগতো। সারা বিশ্বে তার সেই সৌন্দর্য এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত ল্যুক আলোচিত হয়। এরপর তাকে সরকার কিনে নিয়ে চিড়িয়াখানায় রাখে। তার যত্ন কমতে থাকে। তার বরাদ্দের বিশাল অংশ গায়েব হয়ে যায়। প্রতিদিন শুধু তাকে দেখতেই শত মানুষ চিড়িয়াখানায় যায়। দিন দিন অবহেলা ও অযত্নে মাত্র ১০ দিনেই তাকে আর চেনা যায় না। সেই ট্রেডমার্ক চুল, সোনালি পশম কিংবা চোখের চাহনি হারিয়ে গেছে। গোসল হয় না নিয়মিত। ধবধবে সুন্দর থেকে দুর্বল হয়ে মলিন হয়েছে তার চেহারা।’
‘কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে যদি সে তার খামারি মালিকের কাছে থাকতো তাহলে যথাযথ সেবা পেত এবং তার সৌন্দর্য আগের মতই থাকতো। একজন প্রকৃত অভিভাবক কতটা গুরুত্বপূর্ণ পশু এবং মানুষের জীবনে এই ছবিটি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। মালিকের কাছে থাকলে এই কাক তার মাথায় বসতে পারতো না। একে অতিদ্রুত হয় আগের মালিকের কাছে দিয়ে দিন অথবা তাকে অন্য কোন খামারির কোন মহিষ পালের সাথে থাকার ব্যবস্থা করে দিন। নাহলে দিনে দিনে তার অবস্থা আরও খারাপ হবে।’

