সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘রিটায়ার্ড আউট’ কৌশল। চোট ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো ব্যাটসম্যানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হলে একে রিটায়ার্ড আউট বলা হয়। নতুন বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন ঘটনা আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘিরে। ১২ জানুয়ারি বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে রিজওয়ান ২৩ বলে ২৬ রান করেন।
তবে ইনিংসের শেষ দিকে ১৯তম ওভার শুরুর আগে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তার জায়গায় নামেন দলের অধিনায়ক উইল সাদারল্যান্ড, যিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।
রিজওয়ানকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবতা হলো—চলতি বছরে এমন ঘটনা ঘটেছে আরও সাতবার। এর মধ্যে ৩ জানুয়ারি বিগ ব্যাশেই সিডনি থান্ডারের নিক ম্যাডিনসন ২৬ বলে ৩০ রান করার পর নিজেই মাঠ ছাড়েন।
এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্ম্যাশে তিনবার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটুয়েন্টিতে একবার রিটায়ার্ড আউটের ঘটনা দেখা গেছে। সুপার স্ম্যাশে টিম প্রিঙ্গল, জিত রাভাল ও জাভিয়ের বেল এবং এসএটুয়েন্টিতে রোস্টন চেজ এই পরিস্থিতির শিকার হন। সর্বশেষ ভারতের নারী আইপিএলেও আয়ুশি সনি ও হারলিন দেওল রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন।
প্রশ্ন হলো—এই কৌশল কতটা সফল? পরিসংখ্যান বলছে, ফল খুব একটা ভালো নয়। এ বছর মোট আটবার রিটায়ার্ড আউটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর মধ্যে মাত্র দুইবার দল জিতেছে। তাও নতুন নামা ব্যাটসম্যানরা বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি।
যেমন, এসএটুয়েন্টিতে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস রোস্টন চেজকে ১৫ বলে ২৪ রান করার পর তুলে নেয়। তার বদলে নামা শেরফান রাদারফোর্ড দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হন। শেষ ১০ বলে দলটি যোগ করতে পারে মাত্র ১০ রান।
তবে শুধু জয়-পরাজয় দিয়ে এই কৌশলের কার্যকারিতা বিচার করাও ঠিক নয়। রিজওয়ানের ম্যাচে দেখা গেছে, তিনি সেদিন ঠিকভাবে বল টাইমিং করতে পারছিলেন না। তার সঙ্গে ২৩ বল খেলা হাসান খান করেন ৩৬ রান। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত রান তোলার জন্যই রিজওয়ানকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মেলবোর্ন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রিটায়ার্ড আউট পরীক্ষামূলক এক কৌশল। কখনো কাজে লাগছে, কখনো লাগছে না।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন