আসন্ন বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিল শিবিরে নেইমার-বিতর্ক এখন তুঙ্গে। ইনজুরি আর অফ-ফর্মের কারণে নেইমারকে দলে রাখা নিয়ে যখন ফুটবল বিশ্বে নানা বিশ্লেষণ চলছে, তখন এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি মুলার।
তার মতে, পূর্ণ ফিটনেস না থাকলেও মাত্র ৩০ শতাংশ ফিট নেইমারই স্কটিশদের হৃদয় ভাঙার জন্য যথেষ্ট।
আগামী জুনে মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের বাগযুদ্ধ জমিয়ে তুলেছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী তারকা মুলার। বর্তমানে জনপ্রিয় এই টিভি বিশ্লেষক বলেন, নেইমারের প্রতিভার ধারে এখনো যেকোনো রক্ষণভাগ কুপোকাত হতে পারে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মুলারের এক বিশেষ স্মৃতি রয়েছে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ইতালির তুরিনে এই মুলারের গোলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল স্কটল্যান্ড।
সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নেইমার এখনো ব্রাজিলের সেরা খেলোয়াড়। তার প্রধান শত্রু ইনজুরি। সে হয়তো শতভাগ ফিটনেস ফিরে পাবে না, কিন্তু ৩০ শতাংশ ফিট থাকলেও এই বিশ্বকাপে বড় প্রভাব ফেলার ক্ষমতা সে রাখে।
ব্রাজিলিয়ান বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন নেইমারকে দলে রাখা না রাখা নিয়ে রোমারিও এবং রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের তোপের মুখে পড়ছেন, তখন মুলার নেইমারকে নতুনভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি জানান, নেইমারকে পুরো ৯০ মিনিট খেলার প্রয়োজন নেই। বর্তমান পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে কোচ যদি তাকে শেষ ৩০ বা ৪০ মিনিটের জন্য মাঠে নামান, তবেই ফলাফল ব্রাজিলের পক্ষে আনা সম্ভব।
তবে শুধু নেইমারের উপস্থিতিতেই বিশ্বকাপ আসবে না বলে সতর্ক করেছেন মুলার। নিজের ক্যারিয়ারের তিনটি বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, ৯৪ সালে আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম কারণ আমাদের খেলোয়াড়রা নিজেদের 'ইগো' বিসর্জন দিয়ে দেশের জার্সির জন্য খেলেছিল। আমি নিজে তখন নিয়মিত একাদশে ছিলাম না, কিন্তু ড্রেসিংরুমে লিডার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলাম। বর্তমান দলকেও সেই একই ত্যাগের মানসিকতা দেখাতে হবে।
বর্তমান ব্রাজিল দলকে সতর্ক করে দিয়ে এই সাবেক তারকা আরও বলেন, বিশ্বকাপ হচ্ছে একটি স্বল্প দূরত্বের দৌড়। এখানে সফল হতে হলে মোবাইল ফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন