এম নাজমুল ইসলাম নামটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। কেউ তাকে ডাকতেন ‘সাহসী’ বলে, আবার কেউ বা তাকে চিনতেন ‘সমালোচিত’ হিসেবে। নাজমুল ইসলাম ছিলেন বিসিবির সাবেক অর্থ কমিটির দায়িত্বে। ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিসিবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বিভাগের চেয়ারটি পান।
পরিচালক হিসেবে অর্থ কমিটির দায়িত্বে আসার সময় তাকে সেভাবে কেউ চিনত না। তবে একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পরপরই তিনি ব্যাপক আলোচনায় চলে আসেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। এর জেরে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে খেলবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক তখন এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে মুখ খুলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান।
সে সময় তামিমের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়—তিনি বোর্ডে থাকলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন। জবাবে তামিম বলেন, ‘আমি যদি বোর্ডে থাকতাম, তাহলে আমার সিদ্ধান্ত হতো দেশের ভবিষ্যৎ ও সবকিছু চিন্তা করে। হুট করে একটা মন্তব্য করে দেওয়া জটিল।
তামিম আরও বলেন, অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই আমি সিদ্ধান্ত নিতাম।

তামিমের এমন বক্তব্যের পর বিসিবির তৎকালীন অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘এবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’
তার এমন মন্তব্যের পরপরই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এরপর ক্রিকেটারদের নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন এই সাবেক পরিচালক।
গত ১৪ জানুয়ারি মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাজমুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলে ক্রিকেটারদের পেছনে খরচ করা অর্থ ফেরত চাওয়া যায় কি না।
তার বক্তব্য এমন ছিল, ‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তবে ওদের পেছনে আমরা যে কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, সেই টাকা কি আমরা ফেরত চাইতে পারি না?
নাজমুল ইসলামের এসব বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে তখন ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিসিবির অনুরোধে তারা আবারও মাঠে ফেরেন।
তবে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটে চলতি মাসের ৭ তারিখে। নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
সাবেক সভাপতি বুলবুলের বোর্ড ভেঙে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।
যেই তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে ভাইরাল হয়েছিলেন এম নাজমুল ইসলাম, সেই তামিমই মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে বিসিবি প্রধানের দায়িত্ব পেলেন। কিন্তু এখন খোঁজ মিলছে না সেই সমালোচিত পরিচালক নাজমুলের।
অনেকেই ভেবেছিলেন, ভোট জালিয়াতির অভিযোগে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর নাজমুল ইসলাম হয়তো আবারও কোনো কড়া মন্তব্য করবেন। কিন্তু বোর্ড ভেঙে দেওয়ার দুই দিন পার হয়ে গেলেও এই সাবেক পরিচালকের কোনো সাড়াশব্দ নেই।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন