বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও অনেক সময় বড় হয়ে দাঁড়ায় মাঠের বাইরের নাটকীয়তা। গত ১০ মাসে বিসিবি সভাপতির চেয়ারে তিনজনের রদবদল সেই অস্থিরতাকেই যেন ফুটিয়ে তুলেছে।
তবে বিসিবির শীর্ষ পদে এই ঘনঘন পরিবর্তন বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে। ৬৩ বছর বয়সী এই ক্যারিবীয় কোচ সাফ জানিয়ে দিলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে কোনো কিছুই তাকে আর অবাক করে না।
আগামী শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিমন্স।
সেখানে অবধারিতভাবেই প্রশ্ন ওঠে বিসিবির সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে। গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের কমিটি ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করার বিষয়টি কোচ কীভাবে দেখছেন, তা জানতে চান সাংবাদিকরা।
উত্তরে মুখে চওড়া হাসি টেনে সিমন্স বলেন, ‘জীবনে কোনো কিছুই আমাকে আর অবাক করে না। এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই, জীবন নিয়েই আমার উপলব্ধি। আমি এতটাই চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি যে আমি জানি, প্রতিদিন কত কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই কোনো কিছুতেই আমি আর বিস্মিত হই না।’
২০২৪ সালের মে মাসে যখন ফিল সিমন্স দায়িত্ব নেন, তখন বিসিবি সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। তার আসার সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় দায়িত্ব পান আমিনুল ইসলাম। ১০ মাস পর গত ৭ এপ্রিল সকালে আমিনুল দায়িত্বে থাকলেও বিকেলে দৃশ্যপট বদলে যায় এবং দায়িত্ব পান তামিম ইকবাল।
এই পুরো সময়টায় কোচিং স্টাফ বা দলের প্রস্তুতিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি দাবি করে সিমন্স বলেন, ‘একটি সিরিজের প্রস্তুতির জন্য আমরা যেভাবে দলকে তৈরি করি, সেখানে এই পরিবর্তনগুলো কোনো পার্থক্য গড়ে দেয়নি। আমাদের কাজের ধরনেও এটি কোনো প্রভাব ফেলেনি।’
বোর্ডের এই ডামাডোলে ক্রিকেটারদের মনোযোগ নষ্ট হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ ইতিবাচক মনোভাব দেখান। তিনি জানান, ক্রিকেটাররা বরাবরের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং কেউ কেউ তো সিরিজের জন্য স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি ঘাম ঝরাচ্ছেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন