× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

শুভ জন্মদিন ‍‍‘মাস্টার ব্লাস্টার‍‍’

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

শচীন টেন্ডুলকার। ছবি : সংগৃহীত

শচীন টেন্ডুলকার। ছবি : সংগৃহীত

কখনো কখনো ইতিহাস খুব চুপচাপ শুরু হয়। কোনো বড় শিরোনাম দিয়ে নয়, কোনো আলোড়ন দিয়ে নয়—শুধু সাহস দিয়ে। ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর, করাচির মাঠে নামল ১৬ বছরের এক কিশোর। নাম তার শচীন। সামনে পাকিস্তানের ভয়ংকর পেস আক্রমণ। এক বাউন্সার এসে আঘাত করল তার নাকে—রক্ত ঝরছে। সবাই ভাবল, এই তো শেষ, ছেলেটা ফিরে যাবে। কিন্তু সে দাঁড়িয়ে রইল। চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করল। চোখে ছিল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা—আমি খেলব। সেদিন তার ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ১৫ রান। কিন্তু সেই ১৫ রানের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক কিংবদন্তির জন্ম।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কিশোর বড় হতে লাগল, কিন্তু তার সাহসটা কখনো ছোট হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ গ্রাউন্ড, যেখানে বাউন্স আর গতিতে বড় বড় ব্যাটসম্যানরাও হেরে যায়। সেখানে ১৮ বছরের এক তরুণ দাঁড়িয়ে গেল অবিচল হয়ে। একের পর এক বল সামলাতে সামলাতে গড়ে তুলল এক অনবদ্য সেঞ্চুরি। সেটি শুধু একটি শতক ছিল না, সেটি ছিল পৃথিবীকে জানিয়ে দেওয়া—‘আমি এসেছি, এবং আমি থামব না।’

তার ক্যারিয়ারে অনেক ইনিংস আছে, কিন্তু কিছু মুহূর্ত সময়কে ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯৮ সালের শারজাহ, মরুভূমির বুকে হঠাৎ এক ঝড় থামিয়ে দিল খেলা। কিন্তু ঝড় থামার পর, আরেকটি ঝড় শুরু হলো—শচীনের ব্যাটে। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর একের পর এক আক্রমণ, চোখ ধাঁধানো শট, আর এক অবিশ্বাস্য ১৪৩ রান। সেই ‘ডেজার্ট স্টর্ম’ শুধু একটি ইনিংস ছিল না, সেটি ছিল এক শিল্প, এক জাদু—যা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে ঝড় তোলে।

কিন্তু শচীনের গল্প শুধু রানের নয়, এটি হৃদয়ের গল্পও। ১৯৯৯ সালে, যখন তিনি বাবাকে হারালেন, তখন পৃথিবী যেন থমকে গিয়েছিল তার জন্য। তবুও তিনি ফিরলেন মাঠে, দেশের জন্য। চেন্নাইয়ের সেই ইনিংস—১৩৬ রান—ছিল তার ব্যাটের নয়, তার হৃদয়ের কথা। ব্যথা, শোক আর দায়িত্ব একসঙ্গে নিয়ে তিনি লড়েছিলেন শেষ পর্যন্ত। ভারত জিততে পারেনি, কিন্তু সেদিন শচীন জিতেছিলেন কোটি মানুষের ভালোবাসা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড ভাঙা যেন তার অভ্যাস হয়ে গেল। ৯৯টি আন্তর্জাতিক শতক করার পর, পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করছিল একটাই সংখ্যার জন্য—১০০। প্রতিটি ম্যাচে চাপ, প্রতিটি ইনিংসে প্রত্যাশা। অবশেষে ২০১২ সালে সেই শতক এল। সেটি আনন্দের থেকেও বেশি ছিল স্বস্তির—এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।

সংখ্যা বলবে—৩৪ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান, ১০০টি শতক, ২০০টি টেস্ট। কিন্তু এই সংখ্যাগুলো কখনোই পুরো গল্পটা বলে না। গল্পটা লুকিয়ে আছে তার চোখের দৃঢ়তায়, তার ব্যাটের প্রতিটি শটে, তার নীরব সংগ্রামে।

২০১১ সালের বিশ্বকাপ—শচীনের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। পাঁচবার চেষ্টা করেও পারেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, মুম্বাইয়ের সেই রাতে, যখন ভারত বিশ্বকাপ জিতল, তখন পুরো দল যেন সেই ট্রফি তুলে দিল তার হাতে। কারণ সেটি শুধু ভারতের জয় ছিল না, সেটি ছিল শচীনের স্বপ্নপূরণ।

২০১৩ সালে, যখন তিনি বিদায় নিলেন, তখন শুধু একজন খেলোয়াড় অবসর নেননি—একটি যুগ শেষ হয়েছিল। তবুও শচীন শেষ হননি। তিনি থেকে গেছেন প্রতিটি ছোট্ট ছেলের স্বপ্নে, প্রতিটি ব্যাট হাতে নেওয়া শিশুর অনুপ্রেরণায়।

আজ, ৫৩ বছর বয়সে, তিনি শুধু একজন কিংবদন্তি নন—তিনি এক অনুভূতির নাম। শুভ জন্মদিন শচীন টেন্ডুলকার।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!