টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতে মাত্র ৩১ রানে নেই ২ উইকেট। ঘরের মাঠে মিরপুরের উইকেটে যখন পাকিস্তানি পেসাররা হুংকার দিচ্ছিলেন, তখন ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে শুধু নিরাপদেই আনলেন না, বরং ব্যাট হাতে রীতিমতো শাসন করে তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে ইনিংস শুরু করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে সেই আত্মবিশ্বাস বেশিক্ষণ টেকেনি।
শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে মাত্র ৮ রানেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর হাসান আলীর শিকার হয়ে দ্রুত বিদায় নেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামও।
দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়া দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও থিতু হওয়ার পর হাত খুলতে শুরু করেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার। পাকিস্তানি বোলারদের একের পর এক বাউন্সার ও সুইং সামলে গড়ে তোলেন বড় জুটি।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দুজনেই তুলে নেন অর্ধশতক। তাদের এই জুটিতেই প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।
ফিফটি ছোঁয়ার পর যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন টাইগার অধিনায়ক। পাক বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাঠের চারদিকে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামান তিনি।
শান্তর মারকুটে ব্যাটিংয়ে এক পর্যায়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ১২টি চার ও ২টি নান্দনিক ছক্কার সাহায্যে মাত্র ১২৯ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট শতক।
শতক পূর্ণ করে আর বেশি সময় ক্রিজে টিকতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। শতকের পরের বলেই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। আউট হওয়ার আগে ১৩০ বলে ১০১ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলেন এই বাহাতি ব্যাটার।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন