২০২৫ সালের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) গত ৪ জুন বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে বিজয় উদ্যাপন দেখতে এসে মর্মান্তিক পদদলনে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে।
প্রায় তিন মাস পর, নিহত ১১ জনের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ( বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ লাখ) টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষের আহত হওয়ার পর থেকে আরসিবি এই বিষয়ে নীরব ছিল।
তবে, গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে তারা জানায় যে, এই সহায়তা কেবল আর্থিক অনুদান নয়, বরং এটি সহানুভূতি, সংহতি এবং নিহতদের প্রতি সম্মান জানানোর একটি প্রতিশ্রুতি।
পোস্টে আরসিবি বলেছে, আমরা ১১ জন আরসিবি পরিবারকে হারিয়েছি। তারা আমাদের অংশ ছিলেন। তাদের শূন্যস্থান কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়।
তবে, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে, গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আরসিবি তাদের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা করে সাহায্য প্রদান করেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জুন, প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের পর আরসিবি এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে একটি বিজয় মিছিলের আয়োজন করে। ওই মিছিলে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি, প্রায় তিন লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল।
জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এবং মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এই মর্মান্তিক পদদলনের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (সিএটি) আরসিবিকে জনসমাগমের জন্য দায়ী করে, কারণ তারা পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিজয় মিছিলের ঘোষণা করেছিল।
একই সাথে, বিচারপতি জন মাইকেল কুণ্ডার নেতৃত্বে গঠিত কমিশন এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করেছে।
এ ঘটনার পর কর্ণাটক সরকার জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য চারজন সিনিয়র পুলিশ অফিসারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল। যদিও ২৮ জুলাই তাদের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন