ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে বাংলাদেশের বড় সাফল্য

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৫:৪৮ এএম
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে দুই স্বর্ণজয়ী

এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে তিনটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ—মোট চারটি পদক জিতে ইতিহাস গড়েছেন লাল-সবুজের শারীরিক প্রতিবন্ধী অ্যাথলেটরা। দুবাইয়ে এক দিনে এই সাফল্য বাংলাদেশের প্যারা ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর জ্যাভলিন থ্রোতে স্বর্ণ জিতে প্রথমবার ইতিহাসে নাম লেখান চৈতি রানী দেব। পরদিন আবারও সোনালি সাফল্য ধরা দেন তিনি। ১০০ মিটার দৌড়ে সেরা হয়ে নিজের দ্বিতীয় স্বর্ণপদক জেতেন এই অ্যাথলেট। একই দিনে ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইল সুইমিংয়ে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেন শহীদুল্লাহ। এ ছাড়া মেয়েদের হুইলচেয়ার দলগত ইভেন্ট থেকে আসে একটি ব্রোঞ্জ পদক।

এই অর্জনে দারুণ উচ্ছ্বসিত ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ (এনপিসি)। দুবাই থেকে এনপিসির মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল বলেন, প্যারা অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে এক ইভেন্টে এত বড় সাফল্য বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি। তার ভাষায়, এশিয়ান ইয়ুথ গেমসে যেখানে স্বাভাবিক অ্যাথলেটরাও অংশ নেন, সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের এমন পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

ড. মৃদুল বলেন, এই সাফল্যের পেছনে এনপিসির দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও অক্লান্ত পরিশ্রম কাজ করেছে। এ অর্জন শুধু এশিয়া নয়, বিশ্বমঞ্চেও বাংলাদেশের প্যারা ক্রীড়াঙ্গনকে পরিচিত করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চৈতি ও শহীদুল্লাহর সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি দেশের প্যারা ক্রীড়ার জন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে আসার এই গল্প অনুপ্রেরণাদায়ী। তাদের সাফল্য দেশের অসংখ্য প্রতিবন্ধী তরুণ ক্রীড়াবিদকে স্বপ্ন দেখাবে।

এনপিসি মনে করছে, বাংলাদেশের প্যারালিম্পিক আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিতে বাড়তি অর্থায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া কর্মসূচি, সহজপ্রাপ্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।