টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায়ের আগে নিজের শেষ ম্যাচ নিয়ে উসমান খাজার কোনো ‘রূপকথার’ প্রত্যাশা ছিল না। ৮৮তম ও শেষ টেস্টের আগে তিনি বলেছিলেন, রূপকথা তো আগেই হয়ে গেছে, কত রান করলাম তা আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই কথাই যেন সত্যি হলো।
অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ইংল্যান্ডের জশ টংয়ের বলে ৬ রানে আউট হন খাজা। তবে অস্ট্রেলিয়া পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ নিজেদের করে নেয়।
খাজা শেষ টেস্টকে স্মরণীয় করে তোলে ইংল্যান্ড দলের ব্যতিক্রমী সম্মান। ক্রিজে নামার সময় তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয় ইংল্যান্ড দল। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসের সঙ্গে করমর্দনের মাধ্যমে সেই সম্মান গ্রহণ করেন তিনি।
আউট হওয়ার পর আবেগে ভেসে যান খাজা। হেলমেট ও গ্লাভস খুলে ব্যাট তুলে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। প্রায় ২৫ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। এরপর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে সেজদাহ করে বিদায় নেন।
ম্যাচ শেষে খাজা বলেন, যতোটা সম্ভব আমি রান করতে চেয়েছিলাম এবং জয়ী হতে চেয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একমাত্র আনন্দ হলো শেষবার দলের সঙ্গে জয়ের উদযাপন করা।
তিনি বলেন, পুরো সপ্তাহজুড়ে আবেগের চাপ তার খেলায় প্রভাব ফেলেছে। পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি যেভাবে ধৈর্য ধরে খেলেছেন, এই শেষ ম্যাচে তা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
প্রথম ইনিংসে ১৭ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রান করা খাজা বলেন, আমি চেষ্টা করেছি শান্ত থাকার, কিন্তু পুরো টেস্ট জুড়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত আমি খুশি যে আমরা জয় পেয়েছি। এটি আমার জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।
উসমান খাজা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি সফল ক্যারিয়ার শেষ করলেন। তিনি মাত্র ১৬ জন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন, যিনি ৬,০০০ টেস্ট রান ও ১৬টি টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন।
ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩,০০০ বা তার বেশি রান করা অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে মাত্র বব সিম্পসন, ম্যাথিউ হেডেন ও জাস্টিন ল্যাঙ্গারের তুলনায় তার গড় বেশি।
দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ খাজাকে নিয়ে জানিয়ে বলেন, তিনি চমৎকার ক্যারিয়ার শেষ করেছেন। আমি তার ডেবিউ টেস্ট থেকেই খেলেছি। খেলোয়াড় এবং মানুষ হিসেবে তার যাত্রা অসাধারণ। ড্রেসিংরুমে তার অভাব অনুভূত হবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন