আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম এবং সূর্যকুমার যাদব—এই দুয়ের রসায়ন যেন বিষাদেই লেখা। আড়াই বছর আগে বিশ্বকাপের সেই অভিশপ্ত ফাইনালের স্মৃতি এখনো ফিকে হয়নি, তার মধ্যেই রবিবারের হার ভারতীয় শিবিরে ফিরিয়ে আনল সেই পুরোনো শূন্যতা।
তবে এবার হারের ক্ষত ছাপিয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ভারতের ব্যাটিং কৌশলের আমূল পরিবর্তন, যা টুর্নামেন্টের মাঝপথে সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ হেরে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের বলেন, মাঝে মাঝে আপনাকে ভাবতে হবে, ১৮০-১৮৫ রান তাড়া করার সময় পাওয়ারপ্লে-তে আপনি হয়তো ম্যাচ জিততে পারবেন না, কিন্তু হারতে পারেন।
অথচ গত দুই বছর ধরে এই ভারতীয় দলের মূল পরিচয়ই ছিল পাওয়ারপ্লে-তে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। ১০-এর কাছাকাছি রান রেটে ব্যাট করা একটি দলের অধিনায়কের মুখে এমন রক্ষণাত্মক সুর টুর্নামেন্টে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
২০২৪-২৬ বিশ্বকাপ চক্রে ভারতের পাওয়ার-প্লে ব্যাটিং ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা। পাওয়ার-প্লেতে ভারতের গড় এভারেজ ১০-এর কাছাকাছি।
সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাট আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, ভারতের একটি বিকল্প ব্যাটিং পরিকল্পনা বা 'প্ল্যান বি' প্রয়োজন।
হার্দিক পান্ডিয়া ও ঈশান কিশানও দাবি করেছেন যে, টুর্নামেন্টের পিচগুলো ব্যাটিংয়ের জন্য খুব একটা সহায়ক নয়। কিন্তু সমস্যাটা হলো, গত দুই বছর ধরে যারা শুধুমাত্র পাটা উইকেটে মারমুখী ব্যাটিং করে অভ্যস্ত, তারা কি মন্থর উইকেটে হুট করে নিজেদের বদলে নিতে পারবেন?
রায়ান টেন ডেসকাট আরও বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন উইকেটে খেলার পথ খুঁজে বের করা, যা আমাদের চেনা কন্ডিশনের চেয়ে আলাদা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুপার এইট ম্যাচে ভারতের পাওয়ারপ্লে-র স্কোর ছিল ৩১/৩। এই মন্থর শুরুই শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় নিশ্চিত করে। বর্তমানে -৩.৮০০ নেট রান রেট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা ভারতের সামনে এখন ‘করো অথবা মরো’ পরিস্থিতি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন