২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফেরা সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, সেদিন সামান্য কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বেঁচে যান তারা।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই ঘটনা নিয়ে তামিম জানান, সেদিন জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে বাস ড্রাইভারের একটি সাধারণ অভ্যাসই তাদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, আমরা বাসে বসে আছি, নিউজিল্যান্ডের বাস ড্রাইভার সিগারেট খাচ্ছিল। আমাদের দেশের ড্রাইভাররা হলে হয়তো ফেলে দিয়ে চলে আসত, কিন্তু সে পুরো সিগারেটটা শেষ করে সময় নিয়ে উঠতে গিয়ে কয়েক মিনিট দেরি করে ফেলে।
এই সময়টুকুই আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমরা সময়মতো চলে গেলে কেউ বাঁচতাম না, প্রথম গুলিটা সম্ভবত আমিই খাইতাম।
মসজিদের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ক্রিকেটাররা যে দৃশ্য দেখেন, তা ছিল কল্পনাতীত। তামিম সেই ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, কাছাকাছি যাওয়ার পর দেখলাম ২ জন পড়ে আছে। পরে দেখি আরও ৪-৫ জন পড়ে আছে। একজন মহিলা আমাদের গাড়ি ব্লক করে কান্নাকাটি করছিল। সাইডে দেখতেছি সব লাশ পড়ে আছে।
আমরা প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কী হয়েছে। মানুষের কাছে শুনলাম হামলা হয়েছে এবং ঘাতকরা তখনও ভেতরে আছে। এরপরই পুলিশের অভিযান শুরু হয় বলে জানান তিনি।
আততায়ী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছিল উল্লেখ করে তামিম বলেন, সে (আততায়ী) তো খুঁজছিল মুসলিম। সে আগের দুই জুম্মায় এসে দেখে গিয়েছিল সময়টা। সে হিসাব করেছিল সময়টা ভুল করে এসেছে, ১০ মিনিট পরে আসলে রক্তের বন্যায় ভেসে যেত সব। আমরা তখন সবাই পাঞ্জাবি, টুপি পরা ছিলাম।
সেই ভয়ংকর স্মৃতি দীর্ঘ সময় তাড়া করে বেরিয়েছে ক্রিকেটারদের। নিউজিল্যান্ড থেকে ফেরার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাদের।
তামিম জানান, হোটেলে গিয়ে সবাই রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাইয়ের রুমে ঢুকলাম। সবাই কান্নাকাটি করছি। পরের ৪০ দিন আমার চরম ট্রমা ছিল। এর থেকে বের হতে আমাদের অনেক দিন লেগেছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন