আইপিএলের অন্যতম সফল দল হিসেবে পরিচিত হলেও গত দুটি মৌসুম যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) জন্য। ২০২৫ সালের আইপিএল অভিযানে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টিতে জয় পেয়ে প্রথমবার পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ১০ বারের ফাইনালিস্টদের।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিহাসে প্রথম টানা গত দুই মৌসুমে প্লে-অফের টিকিট পেতে ব্যর্থ হলো ধোনির দল। তবে নতুন মৌসুমে সানজু স্যামসন এবং রুতুরাজ গায়কওয়াড়ের টপ-অর্ডার জুটিকে ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
চেন্নাইয়ের এই ভরাডুবির পেছনে মিডল-অর্ডারে শিবম দুবের ফর্মের পরিবর্তনকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে স্পিনের বিরুদ্ধে যে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য দুবে পরিচিত ছিলেন, তাতে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে।
২০২৩ সালে স্পিনের বিরুদ্ধে তার স্ট্রাইক রেট ১৭৬.৪৭ থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে ১১৮.৮-এ নেমে এসেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ইনিংসের শুরুতে ঝুঁকি না নিয়ে সিঙ্গেল নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে দুবের। ২০২৩ সালে তার ইনিংসের শুরুর ১০ বলের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৬.৫৬, যা গত বছর ১২৩.৫৭-এ নেমে আসে।
সিএসকে-র সাফল্যের সাথে স্পিনের বিরুদ্ধে তাদের সম্মিলিত স্ট্রাইক রেটের একটি সরাসরি সম্পর্ক দেখা গেছে গত তিন বছরে। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মৌসুমে দলটি স্পিনের বিপক্ষে ১৪০.৯২ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছিল, যা ছিল টুর্নামেন্টের সেরা।
অথচ ২০২৫ সালে সেই একই পরিসংখ্যানে ১২৪.৩৬ স্ট্রাইক রেট নিয়ে তারা ছিল সবার নিচে। ইনিংসের মাঝপথে ৪ থেকে ৮ নম্বর পজিশনের ব্যাটারদের স্লো গতিই চেন্নাইকে বারবার ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ১৮০-র বেশি রান তাড়া করতে নেমে ২০২০ সাল থেকে ১৩টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা।
চলতি বছর অভিজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে মিনি নিলামে তরুণদের সংগ্রহে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে চেন্নাই। আনক্যাপড উইকেটকিপার-ব্যাটার কার্তিক শর্মা এবং অলরাউন্ডার প্রশান্ত বীরকে (প্রত্যেকে) ১৪.২ কোটি টাকায় দলে ভিড়িয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এই দুই তরুণ ব্যাটারই বড় শট খেলায় পারদর্শী। বিশেষ করে কার্তিকের ১৬২.৯২ স্ট্রাইক রেট এবং প্রতি সাত বলে একটি ছক্কা মারার ক্ষমতা মিডল-অর্ডারে দুবের ওপর থেকে চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তাদের সাথে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের উপস্থিতি স্পিনের বিরুদ্ধে সিএসকে-র দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এদিকে, মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং পজিশন এবং স্পিনের বিরুদ্ধে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনা চলছে। ২০২০ সাল থেকে স্পিনারদের বিপক্ষে ধোনির স্ট্রাইক রেট ১০০-এর নিচে নেমে এসেছে।
ফলে প্রতিপক্ষ দলগুলো এখন শেষ ওভারগুলোতে ধোনিকে আটকাতে নিয়মিত স্পিন ব্যবহার করছে। রাজস্থান রয়্যালস বা আরসিবির মতো দলগুলো এই কৌশলে সফলও হয়েছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন