কথায় আছে, ‘পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।’ বিহারের গোপালগঞ্জের এক সাধারণ কৃষকের ছেলে সাকিব হুসেন সেই প্রবাদকেই সত্য প্রমাণ করলেন। যে ছেলেটি একদিন মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে স্যান্ডেল পরে টেনিস বলে মাঠ কাঁপাতেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) তিনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে আইপিএল অভিষেক ম্যাচে ধসিয়ে দিলেন রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং লাইনআপ।
গোপালগঞ্জে ক্রিকেট শেখার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না। সাকিবের বাবা চাষবাসের পাশাপাশি শ্রমিকের কাজ শুরু করেন যাতে ছেলেকে পাটনায় পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। কিন্তু দারিদ্র্য যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে দামি বোলিং জুতো কেনা ছিল বিলাসিতা।
ঠিক এমন সময়ে ছেলের স্বপ্ন যেন টাকার অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য নিজের গহনা বিক্রি করে দিয়েছিলেন সাকিবের মা। সেই টাকায় কেনা প্রথম পেশাদার জুতো জোড়াই আজ সাকিবকে আইপিএলের সবুজ ঘাসে পৌঁছে দিয়েছে।
সাকিবের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল চেন্নাই সুপার কিংসের নেট বোলার হওয়া। সেখানে তার এক্সপ্রেস গতি দেখে মুগ্ধ হন স্বয়ং ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
সেদিন ধোনির জহুরির চোখ ভুল করেনি। এরপর ২০২৪ সালে কেকেআর তাকে ২০ লাখ রুপিতে দলে নেয়। কেকেআর চ্যাম্পিয়ন হলেও সাকিব সেই বছর মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ২০২৫-এ অবিক্রিত থাকার ধাক্কা তাকে দমাতে পারেনি, বরং জেদ আরও বাড়িয়ে দিল।
২০২৬ আইপিএলের নিলামে ৩০ লাখ রুপিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাকে দলে ভেড়ায়। দলে ভেড়ালেও প্রথম ৪ ম্যাচে সুযোগ পাননি সাকিব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে একাদশে ডাক পান সাকিব। ডাক পেয়েই নিজের অভিষেক ম্যাচেই সাকিব একে একে বল হাতে শিকার করেন, যশস্বী জয়সওয়াল (বিধ্বংসী ওপেনার), ডোনোভান ফেরেরা, জোফ্রা আর্চার, রবি বিষ্ণোইর উইকেট।
এদিন বল হাতে ৪ ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন ২১ বছর বয়সি এই তরুণ পেসার।


