কুইন্টন ডি ককের ক্রিকেট ক্যারিয়ার মানেই যেন অনিশ্চয়তা আর নাটকীয়তার এক সংমিশ্রণ। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে এক বছর পর ফিরে আসা, কিংবা আইপিএল ২০২৬-এর নিলাম থেকে শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে আবার ফিরে আসা—মাঠের বাইরের এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে যখন তিনি নামলেন, তখন তার মধ্যে দ্বিধার কোনো চিহ্নই ছিল না। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে নিজের প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই অপরাজিত এক সেঞ্চুরি করে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিলেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার।
রোহিত শর্মার চোটের কারণে অনেকটা আকস্মিকভাবেই মুম্বাইয়ের একাদশে সুযোগ পান ডি কক। টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে মুম্বাই যখন মাত্র ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে এক পাশে দাঁড়িয়ে তিনি।
অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ইনিংসের শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। মার্কো জানসেনের মতো তারকা বোলারের প্রথম দুই বলেই ছক্কা ও চার মেরে তিনি বুঝিয়ে দেন, ডাগ-আউটে বসে থাকলেও তার ধার কমেনি।
শেষ পর্যন্ত ব্যাট হাতে ৬০ বলে ১১২ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন ডি কক, যেখানে ১৮৬.৮৬ স্ট্রাইক রেটে সাজানো ছিল দৃষ্টিনন্দন সব শট।
মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনারদের বিপক্ষে ডি ককের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অতীতে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এদিন যুজবেন্দ্র চাহালের বিপক্ষে তার ব্যাটিং ছিল দেখার মতো।
আইপিএলের ইতিহাসের সফলতম এই বোলারকে তিনি রীতিমতো শাসন করেছেন। চাহালের ১৩ বলে ২৯ রান নিয়ে ডি কক প্রমাণ করেছেন, স্পিনের বিপক্ষে তিনি এখন অনেক বেশি পরিণত।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে এটিই ডি ককের প্রথম আইপিএল সেঞ্চুরি। তরুণ নমন ধীরের সাথে তার ১২২ রানের জুটি মুম্বাইকে ১৯৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে পৌঁছে দেয়। যদিও বোলারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত মুম্বাইকে হারের মুখ দেখতে হয়েছে, তবে ডি ককের এই ইনিংসটি ছিল ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ।
নমন ধীর ম্যাচ শেষে বলেন, কুইনির কিছু শট ছিল অবিশ্বাস্য। প্রথম বলেই কাভারের ওপর দিয়ে যে ছক্কাটি মেরেছিলেন, তাতেই বোঝা যায় তিনি কতটা উঁচুদরের খেলোয়াড়।
উল্লেখ্য, আইপিএল নিলামে মাত্র ১ কোটি রুপির ভিত্তি মূল্যে ডি কককে দলে ফিরিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন