রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৪৭ রানে হারিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লির শুরুটা আক্রমণাত্মক হলেও হায়দরাবাদের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও শৃঙ্খলিত ফিল্ডিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাদের।
এই জয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো অরেঞ্জ আর্মি।
ম্যাচের শুরু থেকেই রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত দাপট দেখান ওপেনার অভিষেক শর্মা। দিল্লির বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে মাত্র ৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি।
তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ১০টি বিশাল ছক্কা। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে অভিষেক একদিকে যেমন দলকে ২৪২ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ এনে দিয়েছেন, তেমনি স্পর্শ করেছেন বিরাট কোহলির টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডকে।
রান তাড়া করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালসের মিডল অর্ডার ধসে যায় এশান মালিকান্দার জাদুকরী এক স্পেলে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ব্যাটার ডেভিড মিলারের উইকেটটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
মালিকান্দার একটি নিখুঁত গুড-লেংথ বল মিলারের রক্ষণভাগ ভেঙে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্প উপড়ে দেয়। স্তব্ধ মিলার যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন এই লঙ্কান পেসার।
মালিকান্দার বোলিং তোপ এখানেই থেমে থাকেনি। নিজের ৪ ওভারের কোটায় মাত্র ৩২ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৪টি উইকেট। রিভার্স সুইং আর স্লোয়ারের মায়াজাল বুনে তিনি একে একে সাজঘরে ফেরান নীতিশ রানা, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস ও আশুতোষ শর্মার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৫ রানেই থমকে যায় দিল্লির ইনিংস। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের এই দাপুটে জয় তাদের প্লে-অফের পথে অনেকটা এগিয়ে দিল।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন