বয়স কেবলই একটি সংখ্যা—এই আপ্তবাক্যটিকে যেন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন বিরাট কোহলি। আইপিএলের ১৯তম আসরে যখন অনেকে তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, তখনই ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে সেই সব সমালোচনার যোগ্য জবাব দিলেন এই ক্রিকেট সম্রাট।
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল রাতে বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম সাক্ষী হলো এক 'ইম্পেরিয়াল' কোহলির, যিনি বয়সের ভার নয়, বরং অভিজ্ঞতার ধার দিয়ে শাসন করলেন বাইশ গজ।
গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে এই ইনিংসটি খেলার পথে কোহলি আইপিএল ইতিহাসের এমন দুটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা তাকে নিয়ে গেল অনন্য উচ্চতায়। শিখর ধাওয়ান (৭৬৮ চার), ডেভিড ওয়ার্নার এবং রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে আইপিএল ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৮০০টি বাউন্ডারির রেকর্ড গড়লেন তিনি।
শুধু তাই নয়, রশিদ খানকে ছক্কা মেরে রোহিত শর্মা ও ক্রিস গেইলের পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে আইপিএলে ৩০০ ছক্কার এলিট ক্লাবেও নাম লিখিয়েছেন 'কিং কোহলি'।
ম্যাচের শুরুতেই ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান কোহলি। আর সেই জীবন পাওয়ার পর তিনি যা করলেন, তা ছিল রীতিমতো টর্নেডো। বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার কাগিসো রাবাদাকে ড্রাইভ করে বাউন্ডারি ছাড়া করা কিংবা রশিদ খানের মতো স্পিনারকে ব্যাক-টু-ব্যাক ছক্কা-চার মারা—কোহলির ব্যাটিংয়ে ছিল সেই পুরনো খুনে মেজাজ। ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংসে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮০-এর উপরে।
কোহলির এই নতুন রূপের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি জানান, টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরতি নেওয়ার পর কোহলির 'মাসল মেমোরি'তে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে লাল বলের ক্রিকেটের শৃঙ্খলা আইপিএলেও তার হাতকে কিছুটা ধরে রাখত।
কিন্তু ২০২৬-এর কোহলি এখন অনেক বেশি স্বাধীন। তার হাতের মুভমেন্ট এখন অনেক বেশি সাবলীল, যা তাকে আগের চেয়ে আরও জোরে এবং মাঠের সব দিকে বল পাঠাতে সাহায্য করছে।
৩৭ ছুঁইছুঁই বয়সেও কোহলির ফিটনেস তরুণদের জন্য এক বিস্ময়। উইকেটের মাঝে দৌড়ানো থেকে শুরু করে সীমানায় ফিল্ডিং—সবখানেই তিনি ক্ষিপ্র। চলতি আসরে মাত্র ৭ ইনিংসে ৩২৮ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে তিনি সবার শীর্ষে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন