ফুটবলপ্রেমীদের চোখে লিওনেল মেসি হলেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাব্য সব খেতাব জিতেছেন তিনি। ব্যক্তিগত পর্যায়েও অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
কিন্তু মেসির ফুটবল যাত্রা শৈশবেই থেমে যেতে বসেছিল। ছোটবেলায় তার শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়ে, যা শারীরিক বৃদ্ধি ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল ব্যয়বহুল চিকিৎসা।
প্রথমে মেসি স্বদেশের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ-এর যুব দলে খেললেও ক্লাব চিকিৎসার খরচ দেয়নি। মেসির মা সেলিয়া কুচিত্তিনি তখন এই কারণে খুবই রেগে গিয়েছিলেন।
মেসি তার সাক্ষাৎকারে জানান, ক্লাব বলেছিল তারা দেখভাল করবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাহায্য করেনি।
মেসির প্রথম ফুটবল শিক্ষা শুরু হয়েছিল আবান্দেরাদো গ্রানদোলি ক্লাবে। ১৯৯৪ সালের ৩০ মার্চ, মাত্র সাত বছর বয়সে রোসারিও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে তিনি প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেছিলেন।
পরবর্তীতে রিভার প্লেটে ট্রায়াল দেন মেসি। সেখানে তিনি বড়দের সঙ্গে খেলে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেন। কিন্তু নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাব ট্রান্সফার অনুমোদন দেয়নি।
শেষে বার্সেলোনা মেসিকে অনুপ্রাণিত করে। ২০০০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মেসি ও তার বাবা হোর্হে বার্সেলোনার লা মাসিয়া-তে ট্রায়ালের জন্য যান।
কাতালান জায়ান্ট ক্লাব ১৩ বছর বয়সি এই প্রতিভাকে ধরে রাখার জন্য এক মুহূর্তও দ্বিধা করে না। ক্লাবের টেকনিক্যাল সেক্রেটারি কার্লেস রেক্সাচ বলেন, ‘১৫ দিনের ট্রায়ালের জন্য এসেছে, আর ১৪ দিনেই যথেষ্ট ছিল।’
মেসি পরে সাক্ষাৎকারে জানান, চিকিৎসা করা সহজ ছিল না। প্রতিদিনকে দায়িত্বের সঙ্গে সামলাতে হতো। ছোট একটি বাক্সে পেন রাখা থাকত, যা সবসময় ফ্রিজে রাখতে হতো। বন্ধুর বাড়িতে থাকলেও সেটি সঙ্গে নিয়ে যেতেন। ধীরে ধীরে এসব অভ্যাস তার জীবনের অংশ হয়ে যায় এবং খেলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন