বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবলে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এখন থেকে কোনো তরুণ প্রতিভা যদি আর্জেন্টিনার স্থানীয় ক্লাবে পেশাদার চুক্তি সই করার আগেই পাড়ি জমান ইউরোপ বা অন্য কোনো মহাদেশে, তবে ভবিষ্যতে আলবিসেলেস্তেদের নীল-সাদা জার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ আর পাবেন না তারা।
এই নিয়ম যদি অনেক আগে চালু হতো, তবে ফুটবল ইতিহাসের গতিপথ পুরোপুরি পাল্টে যেত। কারণ, সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন কোনো পেশাদার চুক্তি ছাড়াই। এই নিয়ম থাকলে মেসি হয়তো কখনোই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তুলতে পারতেন না।
আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ আইনি জটিলতার শিকার হচ্ছিল। দেশটির ‘পেত্রিয়া পোতেস্তাদ’ নামক আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সের আগে খেলোয়াড়দের ওপর বাবা-মায়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।
এই সুযোগ নিয়ে ইউরোপের ক্লাবগুলো এবং এজেন্টরা খুবই অল্প বয়সে সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের অর্থের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এর ফলে স্থানীয় ক্লাবগুলো খেলোয়াড় তৈরির পেছনে অর্থ ও সময় বিনিয়োগ করেও বিনিময়ে খুব সামান্য ‘ট্রেনিং ফি’ পায়, যা কোনো প্রকৃত ‘ট্রান্সফার ফি’-এর ধারেকাছেও নয়।
সম্প্রতি রিভারপ্লেটের ১৬ বছর বয়সী প্রতিভাবান মিডফিল্ডার লুকাস স্কারলাটো কোনো চুক্তি না করেই ইতালির ক্লাব পার্মায় চলে গেলে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। এরপরই এএফএ নড়েচড়ে বসে এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর স্বার্থ রক্ষার্থে এই নতুন নীতি পাস করে।
নিয়মটি কী বলছে?
১. পেশাদার চুক্তি বাধ্যতামূলক: দেশের বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই স্থানীয় ক্লাবের সাথে পেশাদার চুক্তি (আর্জেন্টিনায় যা ১৬ বছর বয়সে করা যায়) করতে হবে।
২. জাতীয় দলের অযোগ্যতা: চুক্তির আগে চলে গেলে পরিবার সন্তানদের বিদেশে পাঠাতে পারবে, কিন্তু তারা জাতীয় দলে কখনোই ডাক পাবেন না।
আর্জেন্টিনার আইন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করে জানান, নিজস্ব দল নির্বাচনের নীতিমালা তৈরির পূর্ণ অধিকার ফেডারেশনগুলোর রয়েছে, তাই এটি ফিফা আইনের পরিপন্থী নয়।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন