ফুটবল দুনিয়ার ইতিহাসে এমন উন্মাদনা আগে কখনো দেখা যায়নি। ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আগেই গ্যালারি ‘হাউসফুল’ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে দিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফা সভাপতির মতে, এবারের আসরটি হবে কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ‘১০৪টি সুপার বোলের সমান উত্তেজনা’।
বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো জানান, ১০৪টি ম্যাচের সবকটিই ‘সোল্ড আউট’ বা টিকিট শেষ হওয়ার পথে। মাত্র ৭০ লাখ টিকিটের বিপরীতে বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশ থেকে আবেদন জমা পড়েছে অবিশ্বাস্য ৫০ কোটি ৮০ লাখ! অর্থাৎ, প্রতি একটি টিকিটের জন্য গড়ে ৭২ জন ফুটবলপ্রেমী লড়াই করছেন।
টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফিফা সভাপতি জানান, এটি ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপ। চাহিদাই টিকিটের দাম নির্ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ (চাহিদা অনুযায়ী দাম পরিবর্তন) ব্যবস্থা থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দাম বাড়ছে, যা বাজারেরই অংশ।
তবে যারা এখনো টিকিট পাননি, তাদের জন্য সুখবর হলো—আগামী এপ্রিল মাস থেকে শুরু হবে ‘লাস্ট-মিনিট’ সেল বা শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রির লড়াই।
অনেকেই ফিফার এই বিশাল আয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ইনফান্তিনো অভয় দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, উপার্জিত প্রতিটি ডলার বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে সরাসরি বিনিয়োগ করা হবে। তার লক্ষ্য, এই বিশ্বকাপের রেশ যেন শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের পথ সুগম করে।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর আজটেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে এই মহাযজ্ঞের। ফুটবলবিশ্বের নজর এখন কেবল উত্তর আমেরিকার দিকে, যেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে নতুন কোনো রূপকথা।



